গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের দলটি একদম তরুণ। কিন্তু তারা সবাই খুব উদ্যমী। আমরা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চাই। আমরা আমাদের সেরাটা খেলতে পারলে ভালো কিছু হবে।’ বাংলাদেশ সফরে এসে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে হেরে যায় পাকিস্তান। প্রস্তুতি ম্যাচের পরাজয়ে আত্মবিশ্বাসে কোন ঘাটতি হবে না জানিয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘ প্রস্তুতি ম্যাচে জেতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি। ম্যাচে আমরা অনেক কিছু চেষ্টা করে দেখেছি। আমরা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। সবাই ওই ম্যাচে যেভাবে খেলেছে, তাতে আমি খুশি। আর এটা নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছুই নেই; এটা একটা প্রস্তুতি ম্যাচ।’
মূল লড়াইয়ের আগে দু’দলের মৌলিক পার্থক্য প্রসঙ্গে আজহার বলেন, ‘বাংলাদেশ গত কয়েক মাসে দারুণ উন্নতি করেছে। তারা দল হিসেবে দারুণ খেলছে। সে তুলনায় আমাদের দল তরুণ। তবে সবাই খুব মেধাবী। তরুণরা সবাই ভাল খেলার জন্য মুখিয়ে আছে। বিশেষ করে আমাদের বোলিং বিভাগ খুবই দুর্দান্ত। বিশ্বকাপে আমাদের বোলিং লাইন বিশ্বের অন্যতম সেরা ছিল। তবে অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি আছে। তবে আমরা যে কোনো চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। আমরা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চাই। আপনারা অবশ্যই মাঠে ভাল খেলা উপভোগ করতে পারবেন।’
প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে ইনজুরির কবলে পড়েছেন লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ। তার ইনজুরি পাকিস্তান দলের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে এমন প্রশ্নের জবাবে আজহার আলী বলেন, ‘যারা খেলবে তারা এই অভাবটা পূরণ করে দিবে বলে মনে করি। আমরা তাকে মিস করবো। তবে তরুণরা যথেষ্ট মেধাবী। আশা করি তারা বেশ ভাল খেলবে।’
এদিকে পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ ওয়াকার ইউনুস নিজের দল প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের দল একটি পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। এটি খুবই ভাল বিষয়। নতুন কাউকে দলে আসতে দেখা সবসময়ই দারুণ ব্যাপার। আমরা ভাগ্যবান যে আমাদের দলে বেশ কয়েকজন মেধাবী খেলোয়াড় এসেছেন। আমরা একেবারেই তরুণ একটি দল নিয়ে এসেছি। তবে দুই একটা ম্যাচ খেলার পর থেকে আমরা ভাল করতে পারবো। আমাদের কিছুরই অভাব নেই। অভিজ্ঞ যারা ছিলেন, তাদেরকে আমরা মিস করবো। তবে এখনো দলে বেশ কয়েকজন ম্যাচ উইনার আছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের তুলে ধরার জন্য তরুণদের দারুণ সুযোগ এই সিরিজ।’
সিরিজে কারা ফেভারিট এমন প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার বলেন, ‘বাংলাদেশও সামপ্রতিক সময়ে দারুণ উন্নতি করেছে। তারা এখন অনেক গোছানো একটি দল। কোন সন্দেহ নেই, বাংলাদেশই ফেভারিট। তবে আমরা চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য অপেক্ষায় আছি।’
১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে হেরে যাওয়া ম্যাচের সাক্ষী ছিলেন আপনি। ওই একটি ম্যাচ ছাড়া সব ম্যাচে একচেটিয়া জয় পেয়েছে পাকিস্তান। এবারও কি সেটার পুনরাবৃত্তি হবে কিনা জানতে চাইলে পাকিস্তানের এই ফাস্ট বোলার বলেন, ‘ওই ম্যাচের কথা আমার মনে আছে। ওই বিশ্বকাপে একটি ম্যাচই খেলেছিলাম আমি। সেই দিনটিতে বাংলাদেশই ছিলো সেরা দল। ব্যাটিং, বোলিং উভয় বিভাগেই দারুণ খেলেছে তারা।
