দুই মেয়র প্রার্থীর বাগ্‌যুদ্ধ

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৫, ১০:৪৪
 
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রধান দুই মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিক্ততা বাড়ছে। এ কদিন প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে নেতৃবৃন্দ তেমন একটা আক্রমণাত্মক বক্তৃতা-বিবৃতি না দিলেও গত কয়েকদিনে তা বেড়েই চলেছে। এতে করে মাঠ পর্যায়েও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। প্রার্থিগণ পরস্পরকে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখতে শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ.জ.ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, সদ্য বিদায়ী মেয়র জনগণের নিকট ওয়াদা করে ভোট নিয়েছেন; কিন্তু জনগণের জন্য কাজ না করে ঠকিয়েছেন। তিনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে সময় কাটিয়েছেন। জলাবদ্ধতাসহ নগরীর কোন উন্নয়ন করেননি। অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলম অভিযোগ করে বলেন, সরকার সমর্থক প্রার্থীর লোকজন তার প্রতীক সম্বলিত ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। তিনি বলেন, যে উন্নয়নের ধারা তিনি সূচনা করেছিলেন, ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে জনগণের মন থেকে তার নাম মুছে ফেলা যাবে না।
 
আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ.জ.ম নাছিরের পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ ইতিমধ্যে বলেছেন, গত পাঁচ বছরে মনজুর আলম চট্টগ্রামবাসীকে তেতো করে তুলেছেন। আ.জ.ম নাছির উদ্দিন হাতি প্রতীক পাওয়ায় তার প্রাথমিক জয় সূচিত হয়েছে।
 
অন্যদিকে মনজুর আলমের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আলম নোমান গণসংযোগকালে বলেছেন, ‘হাতির আক্রমণ’ থেকে রক্ষা পেতে কমলালেবু প্রতীকে ভোট দিন। সাবেক সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বিএসসি বলেছেন, জলাবদ্ধতা থেকে উদ্ধার পেতে আ.জ.ম নাছিরকে ভোট দিন।
 
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নগরবাসীর শান্তি ও উন্নয়নের প্রতীক মোহাম্মদ মনজুর আলম। তাই তাকে ভোট দিন।
 
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বায়েজিদ এলাকায় সরকারি দলের লোকজন মনজুর আলমের অফিস ভাংচুর ও প্রচারণাকালে নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মনজুর আলমের ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
 
গতকাল বৃহস্পতিবার পাহাড়তলী এলাকার এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ওপর প্রতিপক্ষ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের লোকজন হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়। গত বুধবার রাতে নগরীর জামালখান এলাকার এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী অফিস গভীর রাতে কে বা কারা অগ্নিসংযোগ করে।
 
নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজন জানান,       নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসায় মাঠ পর্যায়ে ক্রমান্বয়ে     উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আগামীতে এর মাত্রা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।