আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৫, ০০:১৪

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অধিকাংশ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মাঠে একক প্রার্থী নেই আওয়ামী লীগের। দলের নির্দেশ অমান্য করে প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। দলীয়ভাবে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও গড়ে প্রতি ওয়ার্ডে তিনজন করে বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোন কোন ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা ৭/৮ জন। এতে দল সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আওয়ামী লীগ। সব বিদ্রোহী প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে দল সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 
সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত একক কাউন্সিলর প্রার্থীর বাইরে দলের নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামা বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। গত দু’দিন ধরে এ তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকার আগে দলের পক্ষ থেকে তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। দল থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে কেউ কেউ ইতিমধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে বৃহস্পতিবার রমনা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি  আবুল বাশার কাউন্সিলর পদে লড়াই না করার ঘোষণা দেন। 
 
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে সাংগঠনিকভাবে সর্বশক্তি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। ভবিষ্যতে যাতে কোন নির্বাচনে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার স্পর্ধা না দেখায় সেজন্য আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে। আর আগামীতেও দলের কোন পদে তাদের আর রাখা হবে না। আওয়ামী লীগ কোন নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী বিদ্রোহী প্রার্থী দেখতে চায় না। ঢাকার দুই সিটিতে চূড়ান্ত বিদ্রোহী প্রার্থীর একটি তালিকা ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে বহিষ্কৃতদের তালিকা ঘোষণা করা হবে। তবে যেসব ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নেই সেখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা ছাড় পাবেন। বিএনপি প্রার্থী না থাকায় ঢাকা উত্তরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ফ. ক. ম ইকবাল,  আব্দুল মোহাইমেন,  মো. মনিরুল হক বাবু, হাজী তারিকুল ইসলাম সজিব, মো. আবেদ আলী— এই পাঁচজনকে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। উত্তরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডেও মোহাম্মদ সেলিম ও ইলিয়াসুর রহমানকে (বাবুল)  উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
 
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দল সমর্থিত একক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রচারণা চালাতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের সময় বিএনপি-জামায়াত জোটের ৯২ দিনের ভয়াল তাণ্ডব, নাশকতা ও পুড়িয়ে মানুষ হত্যার বীভত্স চিত্রও নগরবাসীর সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
 
ঢাকা উত্তরে ৩৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৪টিতে ৭৯ বিদ্রোহী প্রার্থী, দক্ষিণে ৫৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৭টিতে ৯৭ এবং চট্টগ্রামে ৪১টি ওয়ার্ডের ৩৬টিতে ৮২ জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। জানা গেছে, দলের ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাদ দিয়ে কনিষ্ঠ ও সুযোগসন্ধানীদের সমর্থন দেয়ার কারণেই মূলত এ বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান, আওয়ামী লীগ প্রতিটি ওয়ার্ডে দল সমর্থিত একক প্রার্থী দিয়েছে। এর বাইরে অন্য কেউ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নন।
 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী রয়েছেন।