অশুল্ক বাধার কারণে ভারতে রপ্তানি বাড়ছে না: সিপিডি

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৫, ১৮:৪৮
 
 
 
 
 
ভারতের বাজারে বাংলাদেশকে শূন্য শুল্ক-সুবিধা দেয়া হলেও অনেক অশুল্ক বাধার কারণে রপ্তানি বাড়ছে না। বিশেষ করে, ভারত থেকে বাধ্যতামূলক পণ্যের মানসনদ গ্রহণের জটিলতা রয়েই গেছে। অনেক ক্ষেত্রে এই মানসনদ জোগাড় করা সম্ভব হলেও ভারতীয় সীমান্তে শুল্ক কর্মকর্তারা সেটি গ্রহণ করছে না। সেই সাথে পণ্যের মোড়কে বাধ্যতামূলক শর্ত, পণ্যের গুণগত মাননির্ধারণে দুই দেশের ভিন্নতাসহ অনেক অশুল্ক বাধা রয়েছে। এ ধরনের অশুল্ক বাধা কাটাতে বাংলাদেশের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইকে আরো আধুনিকায়ন, বিনিয়োগকারীদের যথাযথ প্রশিক্ষণসহ রাজনৈতিক উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে সিপিডি আয়োজিত ‘নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার ইন বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ট্রেড: অ্যাড্রেসিং এসপিএস ইস্যুস অ্যান্ড কনসার্ন’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন।
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কর্মাস-বাংলাদেশের (আইবিএফবি) প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সংলাপে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অমিতাভ চক্রবর্তী সম্মানীত অতিথি ছিলেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন—সিপিডির গবেষক খালেদা আক্তার। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন এমসিসিআইর সাবেক প্রেসিডেন্ট এম আনিস-উদ-দৌলা, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, ফরেন ট্রেড ইন্সটিটিউটের সিইও ড. মোস্তফা আবিদ খান, বিল্ড এর সিইও ফেরদৌস আরা, সাবেক বাণিজ্য সচিব সোহেল আহমেদ চৌধুরী, ঢাকা চেম্বারের সহসভাপাতি হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের জিএম তানভির ইসলাম প্রমুখ। মুক্ত আলোচনায় তারা বলেন—বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানসনদ নিয়ে বাংলাদেশে পণ্য প্রবেশ করতে দেয়া হলেও ভারতে এ সুযোগ নেই। অনেক সময় সীমান্তবর্তী এলাকায় পণ্য পাঠাতে পণ্যের মান সনদ নিতে দিল্লি পর্যন্ত যেতে হয়। ক্ষেত্র বিশেষে ১৫ দিনের বেশি সময় লেগে যায়। এ ছাড়া, কৃষিপণ্যের গুণগত মানের জন্য স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) বিষয়গুলোও অশুল্ক বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে। এগুলো দূর করা প্রয়োজন। দেশের রপ্তানি কাজে জড়িত প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়নের পাশাপাশি দুই দেশের রজনৈতিক পর্যায়ে উদ্যেগ নেয়া প্রয়োজন।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভারত আমাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য সহযোগী দেশ। ভারতের সঙ্গে আমাদের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে। তবে বাংলাদেশ থেকে ভারত তার আমদানির মাত্র ১ শতাংশের ১০ ভাগের এক ভাগ পণ্য আমদানি করে। কিছু সমস্যার কারণে অনেক শুল্কমুক্ত পণ্য ভারতে রপ্তানি হতে বাধা গ্রস্ত হচ্ছে। এ সব সমস্যা দূর করতে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালিকরণের পাশাপাশি উভয় দেশের বর্ডারে কাস্টমসের ঝামেলা দূর করতে হবে। তবে সবার আগে প্রয়োজন একটি দ্বিপক্ষীয় এসপিএস বিষয়ক চুক্তি। এটা উভয় দেশের মধ্যে হতে পারে অথবা চাইলে সার্কের আওতায় সাফটার মাধ্যমে আঞ্চলিক চুক্তিও করা যেতে পারে।