ঢাকা-চট্টগ্রাম বিভাগ ভাগ হয়ে নতুন দু’টি বিভাগ হবে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৫, ২১:৫৫
 
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান চট্টগ্রাম বিভাগকে দুই ভাগ করে বৃহত্তর কুমিল্লার জেলাগুলো নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
 
ঢাকা বিভাগও দুই ভাগ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
 
প্রধানমন্ত্রী শনিবার বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লাকসাম থেকে চিনকি আস্তানা ডাবল রেল লাইনট্রাক উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। 
 
শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত অনুসারে বিভাগগুলো ভাগ হবে। স্বাধীনতার পর ১৯টি সাব-ডিভিশন থেকে ৬৪টি জেলা সৃষ্টি করে বঙ্গবন্ধু এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
 
প্রধানমন্ত্রী একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টেশন ইয়ার্ডের পুনর্গঠন কাজের, লাকসাম-আখাউড়া ডুয়েল গেজ ডবল রেললাইন এবং বিদ্যমান রেললাইনকে ডাবল গেজে পরিণত করার কাজের উদ্বোধন করেন।
 
রেলওয়ে মন্ত্রী মুজিবুল হক, পরিকল্পনা মন্ত্রী এ এইচ এম মোস্তফা কামাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম লাকসামে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে বক্তব্য রাখেন।
লাকসাম-চিনকি আস্তানা ডবল লাইন প্রকল্পে মোট ৮০.৪৭ কিলোমিটার ডবল রেললাইন ট্রাক নির্মিত হয়েছে। 
 
তিনি বলেন, লাকসাম থেকে চট্টগ্রামে মিরেরসরাইয়ের চিনকি আস্তানা পর্যন্ত রেললাইনে ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬০৭ কোটি টাকা।
 
এই রেললাইন লাকসাম জংশন, নাওতি লাঙ্গলকোট, হাসানপুর, গুণাবতী, সর্সাদি, ফেনী জংশন, কালীদহ, ফাজিলপুর, মুহুরিগানি ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলরুটে চিনকি আস্তানা স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
 
ডবল রেললাইন ৮০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচলে সহায়ক হবে। এতে ২৫ মিনিট সময় কম লাগবে। পাশাপাশি বর্তমানে দৈনিক ৩৬ জোড়া ট্রেন চলাচলের বিপরীতে দৈনিকসর্বোচ্চ ৭০ জোড়া ট্রেন চলাচল করতে পারবে।
 
প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার সরকার রেলওয়েকে আধুনিক ও সময়োপযোগী গণপরিবহন বিশেষকরে দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের লোকদের পরিবহন হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে গত কয়েক বছর এ খাতের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে।
 
শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ডবল লাইন ট্রাক ২০১৯ সালে চালু হবে এবং সরকার দোহাজারি-গুণধুম লাইন দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করছে। এই লাইন ট্রান্স এশিয়া রেলওয়ে নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে।
 
রেলওয়ে খাতের উন্নয়নে তার সরকারের ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছে।
 
তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে তার সরকার ২৭ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৬টি নতুন প্রকল্প এবং ১৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯টি সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। খবর বাসস।