অবরোধের নামে মানুষ পুড়িয়ে কি পেয়েছেন

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৫, ১০:৪৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৯২ দিন হরতাল-অবরোধের নামে জ্বালাও-পোড়াও আর মানুষ পুড়িয়ে মেরে বিএনপি নেত্রী কী পেয়েছেন? উনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, সরকারকে উত্খাত না করে নাকি ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে আদালতে হাজিরা দিলেন, বাসায়ও ফিরলেন। আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা আর জাতীয় সম্পদ ধ্বংসের জন্য বিএনপি নেত্রীকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। গতকাল শনিবার বিকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম-চিনকি আস্তানা পর্যন্ত ডাবল রেললাইনে ট্রেন সার্ভিস উদ্বোধন, আখাউড়া-লাকসাম ৭১ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং চট্টগ্রাম স্টেশন ইয়ার্ড রিমডেলিং উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সের অপর প্রান্তে লাকসাম রেলওয়ে জংশনে অংশ নেন রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক।

 
বর্তমান চট্টগ্রাম বিভাগকে দুই ভাগ করে বৃহত্তর কুমিল্লার জেলাগুলো নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ গঠনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিভাগও দুই ভাগ করা হবে। সরকার ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত অনুসারে বিভাগগুলো ভাগ হবে। স্বাধীনতার পর ১৯টি সাব-ডিভিশন থেকে ৬৪টি জেলা সৃষ্টি করে বঙ্গবন্ধু এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
 
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ হত্যার জবাব চাইতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া আবার যখন ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামবে তখন তাকে জিজ্ঞেস করবেন মানুষ হত্যা করে তিনি কি পেলেন? ৩ মাসে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের সহিংসতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন বীভত্স কর্মকাণ্ড কখনো দেখিনি। তারা ক্ষমতায় থাকতেও মানুষ হত্যা করে। আবার ক্ষমতা বাইরে থাকতেও মানুষ মারে। সময়টা দুঃস্বপ্নের মধ্যে দিয়ে গেছে সবার। সেই দুঃস্বপ্ন এখন কেটে গেছে। এখন আবার উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।
 
 সারাদেশে রেল সেবা সম্প্রসারণে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বৃহত্তর লক্ষ্য আছে আগামীতে বরিশালেও রেল লাইন নিয়ে যাবো। পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের সংযোগ প্রদানসহ পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ২০০৯ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনসহ মোট ৯২টি ট্রেন চালু ও ২৪টি ট্রেনের সার্ভিস বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন তিনি। রেলওয়ের উন্নয়নে সরকারের ২৫ বছর মেয়াদী মাস্টার প্ল্যানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছে।
 
লাকসাম-চিনকি আস্তানা ডাবল লাইন প্রকল্পে মোট ৮০ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার রেললাইন ট্রাক নির্মিত হয়েছে। লাকসাম থেকে চট্টগ্রামে মিরেরসরাইয়ের চিনকি আস্তানা পর্যন্ত রেললাইনে ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬০৭ কোটি টাকা। এই রেললাইন লাকসাম জংশন, নাওতি লাঙ্গলকোট, হাসানপুর, গুণাবতী, সর্সাদি, ফেনী জংশন, কালীদহ, ফাজিলপুর, মুহুরিগানি ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলরুটে চিনকি আস্তানা স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হবে। ডবল রেললাইন ৮০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচলে সহায়ক হবে। এতে ২৫ মিনিট সময় কম লাগবে। পাশাপাশি বর্তমানে দৈনিক ৩৬ জোড়া ট্রেন চলাচলের বিপরীতে দৈনিক সর্বোচ্চ ৭০ জোড়া ট্রেন চলাচল করতে পারবে।
 
আমাদের লাকসাম সংবাদদাতা জানান, গতকাল বিকাল ৫টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম হতে চিনকি আস্তানা পর্যন্ত ডাবল রেললাইনে ট্রেন সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। লাকসাম রেলওয়ে জংশনে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরিল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ তাজুল ইসলাম, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাপরিচালক মোঃ আমজাদ হোসেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার মোজাম্মেল হক, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব ওমর ফারুক, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল, পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী, ডাবল লাইন প্রকল্পের জাইকা প্রতিনিধি তাকাসিয়া বাচ্চু, রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ লোকমান হোসেন, লাকসাম উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ইউনুছ ভুঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান মহব্বত আলী।
 

লাঙ্গলকোট সংবাদদাতা জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ে কুমিল্লার লাকসাম- চট্টগ্রামের চিনকি আস্তানা পর্যন্ত ডাবল লাইন উদ্বোধন করায় নাঙ্গলকোটবাসীর মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। নাঙ্গলকোট রেল স্টেশনে অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রীর সাথে ডাবল লাইন উদ্বোধন বিষয়ে কথা বললে তারা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য নাঙ্গলকোটে কোন বাস সার্ভিস না থাকায় এখানকার জনসাধারণের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হচ্ছে ট্রেন। তারা নাঙ্গলকোটবাসীর সহজ যাতায়াতের জন্য আন্তঃনগর তূর্ণানিশীথা ও ঢাকাগামী মহানগর গোধূলী  ট্রেনটি নাঙ্গলকোট রেল স্টেশনে যাত্রা বিরতির দাবি জানান।