আওয়ামী লীগে একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী, বাড়ছে উত্তেজনা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৫, ০০:৫২

আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কঠোর নির্দেশনার পরও ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর পদে রয়েছে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। আর নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তেজনা বাড়ছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে। এ নিয়ে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে পুলিশ। আর দু’পক্ষই সরকার সমর্থিত হওয়ায় চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে পুলিশ। এদিকে আজ রবিবার নির্বাচন কমিশন আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে বসছে। বৈঠকে নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশনা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন,    আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ পরিবেশ যাতে বজায় থাকে সে ব্যাপারে তিনি ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দুই-একদিনের মধ্যে বৈঠক করবেন।
 
দুই সিটি করপোরেশনের ৯৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ দলীয় সিংহভাগ প্রার্থীই নির্দেশনা মানেননি। তারা দলীয় সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আর এর ফলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে চলছে চরম উত্তেজনা। এ নিয়ে কোন কোন এলাকায় ইতিমধ্যে হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা চলছে। উত্তেজনা চলছে পোস্টার টানানো নিয়েও। কয়েকদিন আগে ঢাকা উত্তরের একটি ওয়ার্ডের একজন বিদ্রোহী প্রার্থী অস্ত্র প্রর্দশন করে। অপর দিকে গতকাল বিকালে তেজগাঁও এলাকায় ছিল উত্তরের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হকের জনসভা। সেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণ নিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় আনিসুল হক তার নির্বাচনী সভা বাতিল করেন। এ বিরোধ চলছে সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদেও। মিরপুর অঞ্চলের একটি সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী। নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে চলছে কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি।
 
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের একজন পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, তার থানার একটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের তিন বিদ্রোহী প্রার্থী। তাদের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ছেঁড়া হচ্ছে পোস্টার। এ নিয়ে পুলিশ রয়েছে চরম বিব্রতকর অবস্থায়। একই অবস্থার কথা জানিয়েছেন ডিএমপির লালবাগ, ওয়ারী ও মতিঝিল বিভাগের একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা। তারা বলেন, অন্যান্য দল সমর্থিত কোন প্রার্থীর কাছ থেকে এ ধরনের কোন অভিযোগ তাদের কাছে খুব একটা আসেনি। 
 

তবে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে কোন ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেনি। আশা করি এ ধারা অব্যাহত থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক তারা দায়িত্ব পালন করছে।