প্রচারণায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী, মাঠে নেই বিএনপি

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৫, ১৩:০৯
 
ওয়াদার ফুলঝুরিতে বিশ্বাস নেই ভোটারদের। এমন অনেক প্রতিশ্রুতি আছে যা বাস্তবায়নের এখতিয়ার নেই সিটি করপোরেশনের। তারপরও প্রার্থীরা দিয়ে যাচ্ছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি। নগরীর অন্য ওয়ার্ডের মতো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডও নানা সমস্যায় জর্জরিত। ৬০ বছর আগে স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার যে চিত্র ছিলো এখনো সেই হাল।
 
লক্ষাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত ৪.১৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ ওয়ার্ডটি ছিল সাবেক ৬৯নং ওয়ার্ড। পুরান ঢাকার নিমতলী, আগামসি লেন, আব্দুল হাদী লেন, আগা সাদেক লেন, আবুল হাসনাত রোড, আলী নেকে দেউরী, নবান কাটরা, বি.কে. গাঙ্গুলী লেন, সিক্কাটুলি লেন, চাঁনখার পুল, বংশাল রোড ও এর আশপাশের এলাকাসহ ১৩টি মহল্লা নিয়ে গঠিত এ ওয়ার্ডটির মোট ভোটার সংখ্যা ৩৬ হাজার ২৬৭ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৯ হাজার ২৩৬ জন এবং মহিলা ভোটার ১৭ হাজার ৩১ জন।
 
নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৮ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ অনুসারী চারজন। দলীয় সমর্থন পেয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইলিয়াস রশীদ (ঝুড়ি)। এছাড়া প্রার্থী হয়েছেন ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. আউয়াল হোসেন (মিষ্টি কুমড়া), কোতয়ালী থানা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আরশাদ হোসেন (টিফিন ক্যারিয়ার), ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. সফিউল্লাহ সফি ( ব্যাডমিন্টন র্যাকেট)। বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোহন (লাটিম)। আর বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লতিফুল্লাহ জাফরু (রেডিও)। এছাড়া নির্বাচনের দৌড়ে আছেন বংশাল থানা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহবুব হাসান ও স্বতন্ত্র মোস্তাকুর রহমান ফারুকের (ঘুড়ি)।
 
আওয়ামী লীগ ঘরনার চারজন প্রার্থী জোরেশোরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, এদের কেউ কেউ দলীয় চাপে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তবে মাঠে নেই বিএনপির দুই প্রার্থী। এদের মধ্যে মোহন রয়েছেন আত্মগোপনে। জাফরু রয়েছেন কারাগারে। তাদের পক্ষে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়রা প্রচারণা চালাচ্ছেন। 
 
আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. ইলিয়াস রশীদ বলেন, ৬ বছর এলাকায় কোন কাউন্সিলর না থাকায় ছায়া কাউন্সিলর হিসাবে কাজ করেছি। বিভিন্ন ব্যাপারে সহায়তা করেছি। জনগণ আমার অবদানকে মূল্যায়ন করবে।  যুবলীগ নেতা মো. আউয়াল হোসেনও বলেন একই কথা। তিনি বলেন, এলাকার ছেলে হিসাবে এলাকার নাগরিক কমিটি আমাকে নির্বাচনে আসার জন্য উত্সাহ দিয়েছে, সুতরাং তারা আমাকে কাউন্সিলর হিসেবে বিজয়ী করবেন। আত্মগোপনে থাকা বিএনপির প্রার্থী মো. মোহনের বিষয়ে তার ভাই জানান, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা থাকায় আমার ভাই সরাসরি ভোটারদের কাছে যেতে পারছেন না। আশা করি ভোটাররা বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখবেন।
 
এলাকাবাসীর চাওয়া:পুরান ঢাকার এ ওয়ার্ডের সমস্যাও অনেক পুরান। পর্যাপ্ত স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যার পর অলিগলিতে চলে নানান ধরনের মাদকের বেচাকেনা। ল্যাম্প পোস্টগুলোতে বাতি নেই, ভাঙা রাস্তায় চলাচলের সময় প্রায় ঘটে দুর্ঘটনা। আর বৃষ্টি হলে তো কথা নেই। জলাবদ্ধতায় জনজীবন অচল হয়ে পড়ে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী এসব সমস্যা নিরসনে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।