বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন অফিস এবং নীতিগুলোর মধ্যে সমন্বয় দরকার। বছরের পর বছর ধরে এ কথা বলা হচ্ছে সভা-সেমিনারগুলোতে। রবিবার ম্যাক্রো-ইকোনোমিক পলিসিজ কনভার্জেন্স বা সামষ্টিক অর্থনীতির নীতির সমকেন্দ্রিকতা শীর্ষক সেমিনারেও একই ধরনের কথা উঠে আসে। রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিনিয়োগ বোর্ড আয়োজিত এ সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য দরকার প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা ও সাংঘর্ষিক নীতি দূর করা। আর তা করতে হলে শিক্ষার মান বাড়ানো ও গবেষণার কোনো বিকল্প নেই বলেও জানান তারা।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী। বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারমান ড. এস এ সামাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের (বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান) সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. মো. ইউনুস। মূল প্রবন্ধের উপর বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন।
সেমিনারে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘সময়োপযোগী ম্যাক্রো-ইকোনোমিক পলিসির ওপর একটি দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি নির্ভর করে। আর সেটা বিবেচনায় নিয়ে নীতি নির্ধারণ করতে পারার কারণে বাংলাদেশ গত অর্ধ যুগেরও বেশি সময় ধরে ৬ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।’
সরকারের সঠিন নীতির কারণে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ছে উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্যনীতিকে আরো বেশি শিল্পবান্ধব করে তোলার প্রতি সরকারের বিশেষ দৃষ্টি আছে। আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর রফতারি ক্ষেত্রে একক পণ্য-নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্য-করণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
ব্যাংকঋণের সুদের হার সম্পর্কে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ব্যাংকের সুদের হার বেশি। তবে সম্প্রতি উদ্যোক্তাদের দাবির পরিপ্র্রেক্ষিতে এটি কমিয়ে আনা হয়েছে। খুব শিগগিরই এটি সিংগেল ডিজিটে নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন।’
ড. তৌফিক-ই-এলাহী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হচ্ছে। ২০০৯ সালে মাত্র ৪৫ ভাগ মানুষ বিদ্যুত্ পেত, বর্তমানে ৭০ শতাংশের উপরে মানুষ বিদ্যুত্ পাচ্ছে। এটা কিছুটা আল্লাহর মেহেরবানী, বাকিটা আমাদের নেতৃত্ব।
বিদ্যুতে ভর্তুকি নয়, বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার পিডিবিকে টাকা দেয় ঋণ হিসেবে। বছর শেষে তারা ঋণ পরিশোধ করে। এখাতে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে না, বিনিয়োগ করছে। শেখ হাসিনার সরকারের প্রথম পাঁচ বছরে বিদ্যুতের জন্য ৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।’
বিদেশী পরামর্শক বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্যা অন্য কেউ সমাধান করে দেবে না। আমাদের মেধা দিয়ে পারিপাশ্বিকতার সঙ্গে মিলিয়ে আমাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
বিরূপাক্ষ পাল বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য নীতিগুলোর মধ্যে সমন্বয়ই প্রধান চ্যালেঞ্জ।’ এ বিষয়ে তিনি স্যামসাং কোম্পানির উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘এ দেশে বিনিয়োগ করার জন্য তাদের পক্ষ থেকে অনেক উদ্যোগ ছিল কিন্তু আমরাই তাদের সুযোগ দিতে না পারায় তারা এ দেশে থেকে চলে গেছে।’
মূল প্রবন্ধে দেখানো হয়—দেশে এফডিআইর পরিমাণ জিডিপির এক শতাংশেরও কম। তাই এফডিআই বাড়াতে হলে অবশ্যই ব্যবসায়ের ব্যয় কমাতে হবে এবং তা সহজ করার ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বপরি বিভিন্ন অফিস ও নীতিগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে বলে মূল প্রবন্ধের বলা হয়।
