সামনেই ইংল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচন। দ্বিতীয়বার সরকার গড়ার লক্ষ্যে এবারও লড়াইয়ে সামিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। শেষবেলার প্রচারে ব্যস্ত ক্যামেরন বলেছেন, তিনি জেতার ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত। বিভিন্ন চ্যানেলের পক্ষ থেকে আয়োজিত রাজনৈতিক বিতর্ক এতদিন ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১০ বছরের একটি মেয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ‘ক্লিন বোল্ড’ হয়ে গেলেন ঝানু এই রাজনীতিক। আর মাত্র ১৬ দিন বাকি ইংল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনের। তারই আগে গত মঙ্গলবার গ্রেটার ম্যানচেস্টারে প্রচারে গিয়ে প্রবল অস্বস্তির মুখে পড়তে হলো ডেভিড ক্যামেরনকে। সালফোর্ড শহরের বাসিন্দা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১০ বছরের কিশোরী রিমা সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সটান জিজ্ঞেস করে ফেললো, ‘আপনি বাদে যদি অন্য কোনও রাজনীতিককে জয়ী করতে হয়, তবে আপনি কাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন এবং কেন?’ ওইটুকু মেয়ের এরকম একটা সরাসরি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে তা আঁচ করতে পারেননি ক্যামেরন। রীতিমতো থতমত খেয়ে গিয়ে বেশ কিছুটা সময় চুপ করে থাকেন। এরপর আমতা আমতা করে পাশ কাটানো একটা জবাব দেন।
ক্যামেরন বলেন, ‘যদি আমি মনে করতাম অন্য কারো এই নির্বাচনে জেতা উচিত, তবে আমি প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতামই না। তাই আমি ছাড়া আর কার জেতা উচিত এই প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারব না। অনেকেই প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, তবে আমি জেতার ব্যাপারে আশাবাদী’। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তাঁকে অস্বস্তিতে পড়তে হলেও রিমার প্রশংসা করতে পিছপা হননি ক্যামেরন। তিনি একবাক্যে মেনে নেন, নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে এদিনই সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই পুচকে মেয়েটিই তাকে সবচে’ বড় বিপদে ফেলেছে!
এদিকে, ক্যামেরনের এই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা দেখে হাসি-ঠাট্টায় মেতেছে তার বিরোধীরা। লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, ১০ বছরের এক কিশোরীর জবাব দিতে যিনি ব্যর্থ হন তিনি গোটা দেশের মানুষের প্রশ্নের জবাব দিবেন কিভাবে। কোটি কোটি মানুষের সমস্যার সমাধান করবেন কিভাবে। ওই কিশোরীর কাছে ক্যামেরনের নাস্তানাবুদ হওয়ার খবরটি বিশ্বের বড় বড় সব গণমাধ্যম ফলাও করে প্রচার করে। এই সুযোগে ক্যামেরনকে চেপে ধরেছেন মিলিব্যান্ড। সমপ্রতি তিনি একটি টিভি বিতর্কে বলেছেন, ক্যামেরন চাকরি চান কিন্তু চাকরির ইন্টারভিউতে বসতে তিনি রাজি নন। তাই দেশবাসীর ভালো করে চিন্তা করে দেখা উচিত তাকে আর ভোট দিবেন কি না।
আগামী ৭ মে ব্রিটেনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫৬তম পার্লামেন্ট নির্বাচন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিভিন্ন জরিপের সূত্র ধরে বলছেন, কোনো দলই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পাবে না। তাই একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্টের সম্ভাবনা খুব বেশি। উল্লেখ্য, দেশটির হাউস অব কমনসের মোট ৬৫০টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৩২৬টি আসনে জয় প্রয়োজন। এই আসন পাওয়ার জন্য পুরোদমে চলছে নির্বাচনী প্রচার অভিযান। বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিশ্রুতিগুলোর মূলে থাকছে অর্থনীতি। এর বাইরে প্রাধান্য পাচ্ছে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন ইস্যু। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী পার্লামেন্টে সরকার গঠন করতে হয়তো ডেভিড ক্যামেরন (কনজারভেটিভ পার্টি) এবং এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ডকে (লেবার পার্টি) ছোট রাজনৈতিক দলের মন জয়েও মনোনিবেশ করতে হতে পারে।
রাজনীতিবোদ্ধাদের মতে, এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী দল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে ‘স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি’ (এসএনপি)। এটি স্কটল্যান্ডের সর্ববৃহত্ রাজনৈতিক শক্তি। তাছাড়া পুরো ব্রিটেনে সদস্য সংখ্যার ভিত্তিতে এর অবস্থান তৃতীয়। গতবছর দলটি ব্রিটেন থেকে স্কটল্যান্ডকে স্বাধীন করতে একটি গণভোটের আয়োজন করে। তখন গণভোটে তারা ব্যর্থ হলেও বিরোধী দল লেবার পার্টির সহায়তায় তাদের শক্তি বৃদ্ধি পায়। এসএনপি ছাড়াও বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নজরে থাকছে ‘ইউকে ইনডিপেন্ডেন্স পার্টি’। তবে শেষ পর্যন্ত কোন দলের মুখে হাসি ফুটবে তা দেখার জন্য সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের ফল প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত।
