বোলার বল ছোড়ার আগেই চোখ বড় বড় হয়ে যাচ্ছে, দু পা বেরিয়ে আসছেন উইকেট থেকে। সপাটে তরবারীর মতো চাল্লাচ্ছেন ব্যাট; বল দিশেহারা হয়ে ছুটছে বাউন্ডারির দিকে।
হিংস্র চোখে সীমানার দিকে চেয়ে আছেন ‘পুরোনো’ সেই তামিম ইকবাল খান।
গ্যালারিতে তখন নতুন দিগন্ত স্পর্শ করার উদ্যাম উল্লাস। পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম সিরিজ জয়ের উল্লাস এবং তামিমকে নতুন করে চেনার উল্লাস।
তামিম ইকবাল আগের ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছেন। ফলে এই তামিম ইকবালকে নতুন করে চেনার কথাটা একটু অবান্তর মনে হতে পারে। ১১৬ বলে অপরাজিত ১১৬ রান করে দলকে ইতিহাস ছোয়া জয় এনে দেওয়া তামিমের ইনিংসে অন্যরকম কী আছে!
আছে। কী যে আছে, সেটা শুধু যারা এই ব্যাটিং দেখেছেন, তাই বলতে পারবেন। তামিমের আগের দিনের ইনিংসটাকে সাকিব বলেছিলেন, তার দেখা অন্যতম সেরা তামিমের ইনিংস। এটার একটা ব্যাখ্যা হল, তামিম খুব ভেবেচিন্তে ইনিংসটাকে তৈরী করেছিলেন।
প্রথম ফিফটি করেছিলেন একেবারে দেখেশুনে। এরপর সেঞ্চুরিতে পৌছালেন হিসাব করা ঝুকিপূর্ন শট নিয়ে। তারপর বাকীটা সময় তান্ডব। কিন্তু এরকম ইনিংসকে ঠিক তামিমসূলভ বলা যায় না। এই ইনিংসে সেই শুরু থেকেই তামিমের ‘বুনো আক্রমণ’ থাকে না।
যদিও ২০০৭ বিশ্বকাপের তামিম বা ২০০৯ ও ২০১০ সালের সেই অতি আক্রমনাত্মক তামিমকে আসলে অনেকদিন হয়ই দেখা যায় না। আজকাল তিনি একটু হিসাব করেই শুরুটা অন্তত করেন। কিন্তু গতকাল কোথায় উড়ে গেল সেই সব কেতাবী কথাবার্তা!
আগের ইনিংসের সেঞ্চুরির আত্মবিশ্বাসের কারণেই হয়তো একেবারে শুরু থেকেই চালাতে শুরু করলেন। প্রথম ওভারের শেষ বলেই জুনায়েদকে চার মেরে ইঙ্গিতটা দিয়েছিলেন। পরের ওভারে রাহাত আলীকে আরও দুটো চার। রাহাত আলীর পরের ওভারে আরও তিনটি চার। তবে আসল বিপদটা টের পেলেন পাকিস্তানের ইদানিংকালের সবচেয়ে নামী দুই বোলার আজমল ও ওয়াহাব।
সাঈদ আজমলের করা নবম ওভারের চতুর্থ বল থেকে টানা তিন বলে তিনটি চার মারলে; এই তিনটিই যথেষ্ঠ ছিলো সেই ২০০৭ সালের তামিমকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য। এর পরের ওভারেই সামনে এলেন আজমল। তাকেও টানা তিনটি চার! মানে এই সময়ে ৭ বলের ছয়টিতেই চার মারলেন। আর এর ভেতর দিয়েই মাত্র ৩১ বলে পৌছালেন ফিফটিতে।
ফিফটি করে একটু যেন শান্ত হলেন।
এই শান্ত ভাবটাই ধরে রেখে সেঞ্চুরিতে পৌছালেন। সেঞ্চুরি আরেকটা রেকর্ডের চূড়াতেও পৌছে দিলো তামিমকে। শাহরিয়ার নাফীস ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পর তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে জোড়া সেঞ্চুরি করে ফেললেন।
মোহাম্মদ আশরাফুলই করতে পারতেন বাংলাদেশেল প্রথম ব্যাটসম্যান হিসাবে ওয়ানডেতে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করার রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়া কার্ডিফ বধের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অসাধারণ দ্রুতগতির ৯৪ রানের ইনিংস। পরের বছর রেকর্ডটি হয়ে যায় শাহরিয়ার নাফিসের। সেঞ্চুরির পরের ম্যাচেই পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস আছে বাংলাদেশের মাত্র পাচ ব্যাটসম্যানের। ২০০৫ এ আশরাফুলের পর নাফিস। এর পর ২০০৭ বিশ্বকাপে সাকিব কানাডার বিপক্ষে ১৩৭ ও ভারতের বিপক্ষে ৫৩। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে করলেণ মাহমুদুল্লাহ। এবার তামিম।
বাংলাদেশের জোড়া সেঞ্চুরি
ব্যাটসম্যান রান প্রতিপক্ষ সাল
শাহরিয়ার নাফীস ১২৩* ও ১০৫ জিম্বাবুয়ে ২০০৬
মাহমুদউল্লাহ ১০৩ ও ১২৮* ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড ২০১৫
তামিম ইকবাল ১৩২ ও ১১৬* পাকিস্তান ২০১৫
