মানসিকতাকেই কৃতিত্ব দিচ্ছেন সাবেকরা

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৫, ১৬:৪৪
 
একটা ওয়ানডে জয়ের জন্য যে দলকে ১৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিলো; ৪৮ ঘন্টার ব্যবধানে তারা সিরিজই জিতে ফেললো!
 
আপাতদৃষ্টিতে এটাকে বিস্ময়কর মনে হলেও বাংলাদেশের সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা বলছেন, এই বাংলাদেশের জন্য এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ দলটা অনেকদিন ধরেই এমন কাজের জন্য যোগ্য বলে মনে করেন তারা। শুধু মানসিকভাবে আরও ইতিবাচক হওয়ায় ফলাফল পাচ্ছেন মাশরাফিরা।
 
জাতীয় দলের সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান ও বর্তমান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু যেমন বলছিলেন, ‘পাকিস্তান বিশ্বের সেরা দলগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাদের সাথে সিরিজ জয় এটা আসলেই বড় কিছু। যাদের সাথে আমরা জয়ই পেতাম না। প্রথম জয়ের পর দ্বিতীয় জয় পেতে আমাদের ১৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এটা একটা বড় অর্জন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় আমাদের জন্য মাইলফলক। এটা আমাদের ক্রিকেটারদের ইতিবাচক মানসিকতার ফলাফল।’
 
কারণ হিসেবে প্রায় সবাই একই কথা বলছেন। সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান দেখছেন এই সিরিজ জয়ের অসামান্য প্রাপ্তি, ‘এই জয়টার সবচেয়ে বড় তাত্পর্য হল, এটা র্যাংকিংয়ে প্রভাব ফেলার কথা। এটার খুব দরকার ছিলো আমাদের। আগামী বিশ্বকাপ খেলতে আমাদের সেরা আটের মধ্যে থাকতে হবে। সে পথে আমরা অনেকটাই এগিয়ে গেলাম।’ 
 
বাংলাদেশের কিংবদন্তী স্পিনার মোহাম্মদ রফিক আবার এতো হিসাবে যেতে রাজী নন। তার এখন পরিষ্কার হোয়াইট ওয়াশ চাই, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯৯৯ সালে আমরা ভালো ভাবেই জিতেছিলাম। তখন তাদের ইতিহাসের সেরা টিম ছিলো। সিরিজ জয়ের পর আমাদের টার্গেট হোয়াইটওয়াশ করা। পাকিস্তান একটা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দল। পাকিস্তানের মতো চ্যাম্পিয়ন দলকে হারিয়ে আমরা আরো এগিয়ে যেতে চাই। পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের জন্য ইতিহাস। গত বছর আমরা নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছি। এবার পাকিস্তানকে ধবল ধোলাই দেয়ার অপেক্ষায় আছি। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ দল এটা করতে পারবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে এর আগে সিরিজ জয়তো দূরের কথা, ম্যাচ জিততেই কষ্ট করতে হয়েছে। বিশ্বের চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে সিরিজ জেতাটা ইতিহাস।’
 
আরেক সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা বলছিলেন, এই জয়কে দুর্বল পাকিস্তানের বিপক্ষে ভাবার কারণ নেই। তিনি মনে করেন, পাকিস্তান ঠিকই আছে, বদলে গেছে বাংলাদেশ, ‘এটা একটা অসাধারণ অর্জন। বিশ্বকাপ থেকে আমরা ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং তিন বিভাগেই অসাধারণ খেলছি। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটাতেও আমরা ভলো করেছি। পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপ কিন্তু খারাপ না। এই বোলারদের নিয়েই তারা বিশ্বকাপে খেলেছে। তবে অভিজ্ঞ কয়েকজন ব্যাটসম্যান নেই। নতুন কিছু ব্যাটসম্যানের আগমন ঘটেছে।’
 
এরপর বাংলাদেশের বদলে যাওয়াটাও পরিষ্কার করে দিলেন তিনি, ‘বাংলাদেশ দলের তামিম ইকবাল ফর্মে ফিরেছেন। প্রথম ম্যাচে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম জোড়া সেঞ্চুরি করেছে। এটা আমাদের ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস। এছাড়া তাদের করা ১৭৮ রানের পার্টনারশিপ সেটাও একটা রেকর্ড। একদিনের ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষেই ঐদিন সর্বোচ্চ ৩২৯ রান করেছে, সেটাও একটা রেকর্ড। আমাদের দল যে উন্নতি করছে সেটার বাস্তব প্রমাণ এটা। সিরিজ জয়ে আমি খুব খুশি। আমার কাছে বাংলাদেশ দলকে মনে হচ্ছে একটা ভারসাম্যপূর্ণ দল। এই দলটি সবদিক থেকেই শক্তিশালী। আমরা আমাদের ক্রিকেট দলকে যেমন চেয়েছিলাম, এই দলটা ঠিক সেরকম।’