প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষকে যন্ত্রণা দিতে খালেদা জিয়া আবার মাঠে নেমে নাটক শুরু করেছেন। মানুষ যখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে, তখনই তিনি নাটক সৃষ্টি করছেন। জনভোগান্তির এই নাটক বন্ধ করার জন্য তিনি বিএনপি নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল সোমবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। মাগুরা-১ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে সংসদীয় বোর্ডের এ সভার আয়োজন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি (খালেদা) সব কিছুতে নাটক করছেন। উনি কোন নির্বাচন ঠেকাতে পারেননি। হঠাত্ নির্বচানী প্রচারণায় নেমে নাটক সৃষ্টি করছেন। তার সিকিউরিটি ফোর্স বিনা উস্কানিতে গুলি চালায়। তার (খালেদা) কাছে নিশ্চয়ই সার্ভে আছে, তার জেতা সম্ভব নয়। সেই জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন। পরিবেশ নষ্ট করছেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মাগুরা-১ আসনের উপ-নির্বাচনে দলের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ২২ ও ২৩ এপ্রিল বিক্রি করবে আওয়ামী লীগ। আবেদনপত্র জমা নেয়া হবে ২৪ এপ্রিল। ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাত্কার নেয়া হবে।
সহিংসতায় দায়ীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহিংসতার জন্য দায়ী প্রত্যেক অপরাধীকে গ্রেফতার করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সহিংসতা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য অপরাধীদের গ্রেফতার করতেই হবে। চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, হরতাল-অবরোধ করে উন্নয়নের গতি থামাতে পারেনি বিএনপি। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। দেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ ব্যাহত করতে পারবে না।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভা কক্ষ থেকে মানিকগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিল ঢাকা ও সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের অফিস। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সাথে সরাসরি কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যেখানে গণহত্যা হয়েছে সেসব স্থানে গণকবর খুঁজে বের করতে স্থানীয় প্রশাসনকে তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, গণকবর খুঁজে বের করা দরকার। আপনারা নাম সংগ্রহ করবেন। এতো বছর পর এতো নাম সংগ্রহ করা নাও যেতে পারে। যাদের নাম সংগ্রহ করা যাবে না, তাদের নিচে লিখে দেবেন ‘নাম না জানা শহীদ’।
মানিকগঞ্জে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা তো ভালো না। কেউ তো এখানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারে। আরিচায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ প্রকল্প করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলমান উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যে জেলা যে সম্পদের জন্য প্রসিদ্ধ তা মানুষের উন্নয়নে কাজে লাগিয়ে প্রত্যেক জেলাকে স্বনির্ভর ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। কমপক্ষে ২০ বছরের জন্য জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রত্যেক জেলার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও মানুষের কল্যাণে সম্পদ ব্যবহারের পদক্ষেপ নিতে হবে।
শেখ হাসিনা যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে কালবৈশাখীর পর মানুষের প্রয়োজনে দ্রুত এগিয়ে আসতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
ভারতে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি চুক্তি প্রস্তাব অনুমোদন
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাবমেরিন কেবলের অব্যবহূত ব্যান্ডউইথ ভারতে রপ্তানির চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন লাভ করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইয়া বলেন, ‘এগ্রিমেন্ট বিটুইন ভারত সঞ্চার নিগাম লিমিটেড (বিএসএনএল) অ্যান্ড বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) ফর লিজিং অব ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইথ ফর ইন্টারনেট অ্যাট আখাউড়া (জিরো পয়েন্ট)’ শীর্ষক চুক্তি অনুযায়ী ১০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ বিএসএনএলের কাছে বিক্রি করা হবে। এর মাধ্যমে বছরে ৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা আয় করবে দেশ। বাংলাদেশের ২০০ জিবিপিএস ক্ষমতার সাবমেরিন ক্যাবল আছে যার মাত্র ৩০ জিবিপিএস ব্যবহূত হয়।