বিশ্বকাপ থেকেই এই বদলটা এসেছে বাংলাদেশ দলে। চিরকালীন স্পিন নির্ভরতা, ভালো করে বললে বাঁহাতি স্পিন নির্ভরতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। এখন পেস বোলাররা দলের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে গেছেন। তাই বলে আরাফাত সানিকে চেপে রাখা তো সম্ভব না! রবিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ১১তম ওয়ানডে খেলতে নেমে তুলে নিলেন ২০তম উইকেট। এই শিকার করেছেন সানি মাত্র ২০.৭৫ গড়ে। দশের বেশি ওয়ানডে খেলা বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে এখন সানিরই গড় সবচেয়ে ভালো। সেই সানি গতকাল বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয় ও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলছিলেন—
এখন তো আপনি দলের নিয়মিত সদস্য। এক বছর আগে বিষয়টা কী ভেবেছিলেন?
এক বছর আগে কিছুই ভাবিনি। বিশ্বকাপ খেলবো কিনা তাও ভাবিনি। পরের সিরিজে থাকবো কিনা তাও জানি না।
পাকিস্তানকে এভাবে হারানো যাবে, কল্পনা করেছিলেন?
ওদের হারিয়ে দিবো এভাবে আমরা ভাবি নাই। তবে পরিকল্পনা ছিলো দলবদ্ধ হয়ে ভালো ক্রিকেট খেলার। আমরা জানতাম ভালো ক্রিকেট খেললে ওদের হারাতে পারবো। যে কোনো দলের বিপক্ষেই এটা সম্ভব।
দুটো ম্যাচেই বড় ব্যবধানে জিতলেন আপনারা...
এতো বড় ব্যবধানে জিততে পারবো কিনা তা নিয়ে আমরা চিন্তা করিনি। আমরা কেবল যার যার দায়িত্ব নিয়ে সচেতন ছিলাম।
আপনাদের কী বিশ্বাস ছিলো যে, আপনারা পাকিস্তানকে হারাতে পারবেন?
পাকিস্তানকে হারাতে পারায় আমরা বিস্মিত হইনি। আমাদের বিশ্বাস ছিলো যে ভালো ক্রিকেট খেললে ওদের হারাতে পারবো।
আগে এরকম একটা ম্যাচ জিতলে বাংলাদেশ জুড়ে উদযাপন হতো। এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে?
অল্পতেই খুশি হলে বিপদ। এটাই শেষ সিরিজ নয় সামনে আমাদের আরো সিরিজ আছে। এখন আমরা যতো জিতবো, আত্মবিশ্বাস ততো বাড়বে। একই সাথে আমাদের অনুপ্রেরণা বাড়াবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন কাল আপনাদের খেলা দেখতে। কেমন লাগলো?
প্রধানমন্ত্রী অনেক ব্যস্ততায় থাকেন। তারপরও তিনি যে খেলা দেখতে আসেন, এটা খুব ভালো লাগে। আমরা জাতি হিসেবেই ক্রিকেটের প্রতি খুব আবেগী। গতকাল ম্যাচ জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভবিষ্যত্ ক্রিকেটারদের জন্য এটি দারুণ অনুপ্রেরণার হবে।
গত বছরও আপনারা এই দলই খেলেছেন। এই সময়ে আসলে কী বদলে গেলো?
২০১৪ সালে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি, যদিও জিততে পারিনি। আপনারা ম্যাচগুলো দেখলে বুঝবেন আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আমরা খুব কাছে গিয়ে হেরেছি। বড় ও ছোট দলের মধ্যে পার্থক্য হলো অভিজ্ঞতা। সেখানেই আমরা পিছিয়ে পড়েছি।
ম্যাচের আগে আপনার পরিকল্পনাটা কী ছিলো?
কোনো ম্যাচ খেলতে নামলেই আমার মনে হয় প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছি। যখনই সুযোগ পাই, খেলাটা উপভোগ করতে চাই।
বোলিংয়ে কী বৈচিত্র্য বাড়ানোর চেষ্টা করছেন?
ওয়ানডে ক্রিকেট অনেক কঠিন হয়ে গেছে। পাঁচজন ফিল্ডার সার্কেলের ভিতরে রেখে বোলিং করতে হয়। সেটার জন্য একটু ডিফারেন্ট প্ল্যানিং করতে হয়। গতিতে বৈচিত্র্য আনতে হয়। সেটাই এখন চেষ্টা করছি।
ওয়ানডেতে দারুণ সাফল্য পাচ্ছেন। টেস্টের কথা ভাবছেন?
আমার যে ধরনের বোলিং তা নিয়ে আপাতত ওয়ানডে নিয়েই ভাবছি। এখানে আগে নিজেকে প্রমাণ করতে চাই। পরে যদি টেস্টের জন্য যোগ্য হই, তবে হয়তো টেস্টও খেলবো।
এখন নিশ্চয়ই সবার চিন্তা জুড়ে হোয়াইট ওয়াশ?
হোয়াইটওয়াশ নিয়ে ভাবছি না। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। ভালো ক্রিকেট খেলে হারলে মন খারাপের কিছু থাকবে না। বিশ্বকাপেও হয়তো দেখেছেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা ভালো খেলে হেরেছি-এতে নিশ্চয় সবাই খুশি হয়েছে। ওরকম হারে মন খারাপ হয় না। আমরা এখন সেভাবেই চিন্তা করছি। হোয়াইটওয়াশের চিন্তা না করে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলার চিন্তা করছি।
পাকিস্তানের এই দলটা কী একটু দুর্বল?
ওরা আমাদের চেয়ে দুর্বল, এটা আমি মনে করি না। তবে আমাদের দলে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে। সে তুলনায় ওরা একটু অনভিজ্ঞ। দুই-তিনটা সিরিজ খেললে ওরাও গুছিয়ে নিতে পারবে।
তামিম-মুশফিকের ব্যাটিংটা কীভাবে দেখছেন?
তামিম-মুশফিক অসাধারণ ব্যাটিং করছে। ওরা এতো ভালো ক্রিকেটার যে, ওদের নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। ওয়ানডে ক্রিকেটে যেমন ব্যাটিং প্রয়োজন, সেটাই ওরা দুজন করছে।
এখন তো স্পিনারদের জন্য দলে জায়গা ধরে রাখা একটা বাড়তি চ্যালেঞ্জ।
জাতীয় দলে থাকতেই হবে বা ভালো খেলতেই হবে, আমি এভাবে ভাবি না। এটা আমার কাছে অতিরিক্ত চাপের বিষয়। পারফর্ম করতে পারলে আমি দলে থাকবোই। এটা নিয়ে আগে থেকে চিন্তার কিছু নেই। পারফর্ম করতে না পারলে দলে থাকা যাবে না।
