মধ্যপাড়া পাথর খনি খুলে দিতে পারে সম্ভাবনার দুয়ার

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৫, ১৩:৪৩
 
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত মধ্যপাড়া পাথর খনিতে পুরোদমে উত্পাদন চলছে। বর্তমানে খনিতে তিন শিফটে প্রতিদিন পাথর উত্তোলন হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার মে.টন। বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার মে.টন পাথর। এখানকার উন্নতমানের পাথর পদ্মাসেতুসহ সরকারি নানা স্থাপনায় ব্যবহার করা গেলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং খনিটি লাভজনক হয়ে উঠে দিনাজপুর তথা পুরো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
মধ্যপাড়া পাথর খনি সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩-১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় ১.২ বর্গকিলোমিটার (ভূ-গর্ভস্থ) এলাকায় ১২৮ মিটার গভীরতায় কঠিন শিলা আবিষ্কার করে। ১৯৭৬-৭৭ সালে কানাডার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মেসার্স এনএসসি কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার পর মধ্যপাড়ায় একটি ভূ-গর্ভস্থ খনি বাস্তবায়ন কারিগরি দিক দিয়ে সম্ভব ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে লাভজনক বলে সুপারিশ করে। দেশে বছরে প্রায় ৬০-৬৫ লাখ মে. টন পাথরের চাহিদাকে সামনে রেখে প্রতিদিন ৫ হাজার ৫শ’ মে. টন হারে বছরে সাড়ে ১৬ লাখ মে. টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে উত্তর কোরিয়ার মেসার্স কোরিয়া সাউথ কো-অপারেশন কর্পোরেশনের সাথে খনি উন্নয়নের চুক্তি করে সরকারের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীন তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)। এতে ৩ দফা প্রোজেক্ট প্রোফাইল (পিপি) সংশোধন করার পর সংশোধিত পিপি অনুয়ায়ী মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ১৯৭.৮৯৯ মিলিয়ন ডলার। এখানে রয়েছে গ্রানাইট, গ্রানোডায়োরাইট, নাইস ইত্যাদি শিলা। খনির আয়ুষ্কাল ধরা হয় ৭০ বছর। ডেকোরেটেড ফ্লোর টাইলস এবং নির্মাণ কাজে ব্যবহার যোগ্য এই শিলার ‘কমপ্রেসিভ স্ট্রেংথ’ ২৪০০০ পিএসআই।
 
খনি উন্নয়ন চুক্তির প্রায় এক যুগ পর  ২০০৭ সালের ২৫ মে মধ্যপাড়া পাথর খনি বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করে। কিন্তু দেশিয় খনি শ্রমিক দিয়ে প্রতিদিন মাত্র এক শিফটে গড়ে ৭-৮ শ’ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের মধ্যে এর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে খনিটি লোকসানের মুখে প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। সরকার খনিটি লাভজনক করতে ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর দেশিয় প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া কর্পোরেশন লি এবং বেলারুশ সরকারের জেএসসি ট্রেস্ট শাকতোসপেতসট্রয় মিলে গঠিত জার্মানিয়া ট্রেস্ট কসসোর্টিয়াম (জিটিসি)- এর সাথে সাড়ে ৬ বছর মেয়াদে প্রায় ১ হাজার ৪ শ’ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক চুক্তি করে। জিটিসি খনি শ্রমিক অসন্তোষ এবং স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিকুলতা মোকাবিলা করে খনির দায়িত্বভার গ্রহণ করে ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি উত্পাদন শুরু করে। বর্তমানে জিটিসি তিন শিফটে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করছে এবং তারা খনির উন্নয়ন করে চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অনুয়ায়ী পাথর উত্তোলনে সক্ষম হবে বলে জিটিসির একটি সূত্র আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।