সোমবার রাজধানীর কাওরান বাজারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলায় ভাঙচুর হওয়া গাড়ি দেখেছেন ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। তারা এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। তারা সংযত আচরণ কামনা করেন। ক্ষতিগ্রস্ত চারটি গাড়ি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে রাখা হয়।
ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া,ভারত,পাকিস্তান, কাতার, জাপান, ফ্রান্স, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি দেশের কূটনীতিকরা গাড়ীগুলো ক্ষত-বিক্ষত অবস্থা দেখেন। বিএনপির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত এনামুল হক চৌধুরী বিকেল সোয়া ৫টায় গাড়িগুলো কূটনীতিকদের দেখানোর সময় হামলার পুর্বাপর বর্ণনা করেন।
তার আগে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কূটনীতিকরা বৈঠক করেন। বৈঠকে বিএনপির নেতারা বলেন, প্রচারণার জন্য কারওয়ান বাজার এলাকায় গেলে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও দলীয় সন্ত্রাসীরা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপর আগ্নেয়াস্ত্র, ইট-পাটকেল, পাথর ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালায়। এ ছাড়া তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেও গুলি করা হয়। তার গাড়ী বুলেটপ্রুফ থাকায় গুলি কাচ ভেদ করে খালেদা জিয়াকে আঘাত করতে পারেনি।
বিএনপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, খালেদা জিয়ার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত এনামুল হক চৌধুরী, মেজর জেনারেল অব. ফজলে এলাহী আকবর,জেবা খান প্রমুখ।
বৈঠক শেষে বিএনপির পক্ষ থেকে ‘ব্রিফিং ফর দ্য ডিপ্লোম্যাট’ নামে ঘটনার একটি লিখিত বর্ননা কূটনীতিকদের হাতে দেওয়া হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিএনপির এক নেতা এসব তথ্য জানান।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কূটনীতিকরা আসেন। এছাড়া চলমান রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কূটনীতিকরা আলোচনা করেন।
বিএনপির এক নেতা জানান, খালেদা জিয়া আগত কূটনীতিকদের তার ওপর হামলা, আহত নিরাপত্তাকর্মীদের অবস্থা এবং নির্বাচনী পরিবেশ, ইসির দায়সারা ভূমিকা ও সরকারের বিরোধী দলের প্রার্থীদের হয়রানির বিষয়ে জানিয়েছেন।
