শিক্ষক মারধরের ঘটনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার এবং সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনকসহ চারজনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন এবং বাকীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল যুদ্ধাপরাধী মো. কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করেন বুয়েটের মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম। এরই জের ধরে পরের দিন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতারা ওই শিক্ষককে তার অফিসে মারধর করে। পরে এ নিয়ে তদন্ত কমিটি করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। গত ১৮ ও ১৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সভায় তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে সোমবার রাতে বহিষ্কারের বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে তাদেরকে জানানো হয়।
বুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. হাসিব চৌধুরী বলেন, ১৮ ও ১৯ এপ্রিল সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়ে। সোমবার রাতে চিঠির মাধ্যমে বহিষ্কারের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়।
বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনক জানান, এটা খুবই অন্যায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করবো। আর প্রশাসনকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য ৭দিনের আল্টিমেটাম দেব। যদি বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা না হয় তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে যাব।
বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. খালেদা ইকরাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করার কারণে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে বলেও তিনি জানান।
