ঢাকা দক্ষিণে মেয়র কাউন্সিলর পদে লড়ছেন দুই সাংবাদিক

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৫, ২০:৪০
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই সাংবাদিক। মেয়র পদে ‘লাউ’ প্রতীকে লড়ছেন ‘বাংলাদেশ মেস সংঘ’র প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ও সাংবাদিক মো. আয়াতুল্লাহ। আর ঢাকা দক্ষিণের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ‘ঝুড়ি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাংবাদিক আলহাজ্ব ফিরোজ আলম মিলন। আয়াতুল্লাহ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না হলেও ফিরোজ আলম আ.স.ম আব্দুর রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডি’র সঙ্গে সম্পৃক্ত।
 
মেয়র প্রার্থী আয়াতুল্লাহ প্রতিদিনই গণসংযোগ করছেন। বিশেষ করে ওসমানী উদ্যান, রমনা পার্ক ও ভিক্টোরিয়া পার্কসহ এলাকার বিভিন্ন উদ্যানে সকাল-বিকালে ভ্রমণকারীদের মাঝে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসেও যাচ্ছেন।
 
মঙ্গলবার তিনি সদরঘাট ও মতিঝিলসহ জনবহুল স্থানগুলোতে গেছেন। প্রচারণার সময় ভোটারদের কাছে ইশতেহার সম্বলিত লিপলেট বিতরণ করছেন তিনি। এছাড়া মেস ও হলে বসবাসকারী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ১৫টি টিমও এলাকা ভাগ করে দক্ষিণের ৫৭টি ওয়ার্ডে তার জন্য কাজ করছে।
 
আয়াতুল্লাহ  ইত্তেফাককে বলেন, ‘শিক্ষা ও অভিজ্ঞতায় আমি অন্য প্রার্থীদের তুলনায় পিছিয়ে নেই। নিজের অতীতকে মনে রেখেই আমি মেস সংঘের ব্যানারে নির্বাচন করছি। বিভিন্ন অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের বলছি-আপনারাও ছাত্রজীবনে অনেকেই মেস বা হলে ছিলেন, আমি নির্বাচিত হতে পারলে মেস ও হলে বসবাসকারীদের অধিকার রক্ষার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেব। এ কথায় আমি বেশ সাড়াও পাচ্ছি।’
 
এদিকে, আউটার সার্কুলার রোড, উত্তর ও দক্ষিণ শাহজাহানপুর, শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী, দক্ষিণ খিলগাঁও, খিলগাঁও বাগিচা, মোমেনবাগ ও শহিদবাগ নিয়ে গঠিত ঢাকা দক্ষিণের ১১ নম্বর ওয়ার্ড (পুরাতন ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড)। এই ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ‘ঝুড়ি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাংবাদিক ফিরোজ আলম মিলন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পুরো ওয়ার্ড চষে বেড়াচ্ছেন। নোয়াখালীর সন্তান হলেও দীর্ঘদিন এই এলাকায় বসবাসের সুবাদে স্থানীয়ভাবে তার বেশ পরিচিতি রয়েছে।
 
সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনীতি ও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকার কারণেও এলাকায় রয়েছে তার ভালো জানাশোনা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি। বিশেষ করে, বিপদে-আপদে সবসময় স্থানীয়দের পাশে তার থাকার বিষয়টি ভোটারদের মুখে-মুখে। যার ফলে এই ওয়ার্ডের নির্বাচনে রাজনীতির বাইরেও ‘ব্যক্তি মিলন’ বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। আজও মিলন গণসংযোগ করেছেন উত্তর শাহজাহানপুর, খিলগাঁও বাগিচা, শহীদনগর ও মোমেনবাগসহ এলাকার বিভিন্ন অলি-গলিতে।
 
তিনি ইত্তেফাককে জানান, নির্বাচিত হতে পারলে তিনি মসজিদ-মন্দিরে পাঠাগার নির্মাণ, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন, নারী-শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কমিউনিটি পুলিশি ব্যবস্থা গঠন, স্থানীয় ঝিল পরিচ্ছন্ন করে নান্দনিক প্রাতঃভ্রমণের ব্যবস্থা, ইভটিজিং বন্ধ ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণের মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য সুন্দর আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্ঠা করবেন। এছাড়া প্রতি মাসে অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে সমন্বয় সভার মাধ্যমে উদ্ভুত সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা রয়েছে তার।