'ভোটারদের মানসিক স্বস্তির জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন'

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৫, ২২:২১
 
ভোটারদের মানসিক স্বস্তির জন্য নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘তিন সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়নের প্রয়োজন ছিল না। অতিতের সিটি নির্বাচনগুলোতেও সেনাবাহিনীর সহয়তা লাগেনি। তবু অতিসম্প্রতি জনগণ খুব আতঙ্কিত সময় পার করেছে। জনগণ এখনো দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছে। যদিও পরিস্থিত এখন অনেক ভালো। তার পরও ভোটাদের মানসিক স্বস্তির জন্য সেনাবাহিনীকে নির্বাচনে সহয়তা করতে বলেছি।’ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
 
সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া-সংক্রান্ত বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘সেনাবাহিনী যথেষ্ট কার্যকর। তারা অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দেশে-বিদেশে কৃতিত্বের পরিচয় দিচ্ছে। দুর্যোগ দুঃসময়ে তারা আমাদের পাশে আছেন। সেনাবাহিনী আমাদের গর্বের জিনিস। আমি আশা করি—তারা তাদের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করবে এ আস্থা আমাদের আছে।’
 
সিইসি বলেন, ‘বিচারিক কার্যটা আইন দ্বারা পরিচালিত। যেভাবে আইন আছে, সেভাবে হবে। আইন মোতাবেক সব কিছু করতে হবে। আইনের ব্যতয় করলে তো হবে না। তবে তাদের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে।’
 
বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করে নিরপেক্ষভাবে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা পুলিশের কাছ থেকে খবর নিয়েছি—তারা বলেছে, দুই দিক থেকে মামলা হয়েছে। আমরা পুলিশকে বলেছি—অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে এবং অতিদ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন এটা নিষ্পত্তি করা হয়।’
 
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগের ভিত্তিতে সিইসি বলেন, ‘অভিযোগ নির্দিষ্টভাবে দিতে হবে। ঢালাওভাবে বললে হবে না—সব থানার ওসিকে বদলি করে দেন। সুনির্দিষ্ট করে অভিযোগ দিতে হবে। তারপর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
 
সিইসি বলেন, ‘আমরা অতিতে কখনোই পিছপা হইনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাকে তাত্ক্ষণিক বদলি করেছি। এ ছাড়া, সময় না পেলেও তাদের নিষ্ক্রিয় করে রেখেছি।’
 
প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, ‘আপনারা আচরণ-বিধি মেনে চলেন, যাতে আমাদের ইনফোর্স করতে না হয়। বিধি লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ইতোমধ্যে কয়েক লাখ টাকা জরিমানা করেছি। আমরা মেয়র পদপ্রার্থীদেরও সর্তক করেছি। তারা দ্বিতীয় বার বিধি লঙ্ঘন করলে তাদের কঠিনতম শাস্তি দিতে পিছপা হব না।’
 
‘ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা নেই’ উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা স্থাপন অনেক ব্যয়বহুল। এ জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্ভব নয়। তবে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সার্বক্ষণিক ভোটকেন্দ্রে থাকবে। ফলে কোনো সমস্যা হবে না।’
প্রেসব্রিফিংয়ে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ, মো. শাহ নেওয়াজ, ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান, যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলি ও জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান।