ভোটারদের মানসিক স্বস্তির জন্য নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, তিন সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন ছিল না। অতীতের সিটি নির্বাচনগুলোতেও সেনাবাহিনীর সহায়তা লাগেনি। তবুও অতি সমপ্রতিককালে মানুষ খুব আতঙ্কিত সময় পার করেছে। মানুষের মনে এখনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে। যদিও পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো। তারপরও ভোটারদের মানসিক স্বস্তির জন্য সেনাবাহিনীকে নির্বাচনে সহায়তা করতে বলেছি।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং-এ তিনি এসব কথা বলেন। সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া সংক্রান্ত বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, সেনাবাহিনী যথেষ্ট কার্যকর। তারা অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দেশে-বিদেশে কাজ করছে। দুর্যোগে তারা আমাদের পাশে আছেন। সেনাবাহিনী আমাদের গর্বের জিনিস। আমি আশা করি, তারা তাদের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করবে। এ আস্থা আমাদের আছে। তিনি বলেন, বিচারিক কাজটা আইন দ্বারা পরিচালিত। যেভাবে আইন আছে, সেভাবে হবে। আইন মোতাবেক সব কিছু করতে হবে। আইনের ব্যত্যয় করলে তো হবে না। তবে তাদের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে সিইসি বলেন, খালেদা জিয়ার ওপর হামলার ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা পুলিশের কাছ থেকে খবর নিয়েছি। তারা বলেছেন - দুই দিক থেকেই মামলা হয়েছে। আমরা পুলিশকে বলেছি, অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে এবং অতিদ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়। খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, প্রচারণার সময় একটি গাড়ি ব্যবহার করা যাবে। একাধিক গাড়ি ব্যবহার আচরণবিধির পরিপন্থি।
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বলেন, অভিযোগ নির্দিষ্টভাবে দিতে হবে। ঢালাওভাবে বললে হবে না- সব থানার ওসিকে বদলি করে দেন। সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ দিতে হবে। তারপর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সিইসি উল্লেখ করেন, আমরা অতীতে কখনোই পিছপা হইনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে বদলি করেছি। এছাড়া সময় না পেলে তাদের নিষ্ক্রিয় করে রেখেছি।
প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, আপনারা আচরণবিধি মেনে চলেন। বিধিলঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ইতিমধ্যে কয়েক লাখ টাকা জরিমানা করেছি। আমরা মেয়র প্রার্থীদেরকেও সর্তক করেছি। দ্বিতীয়বার আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাদের কঠিনতম শাস্তি দিতে পিছপা হব না।
ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা নেই উল্লেখ করে সিইসি বলেন, সিসি ক্যামেরা স্থাপন অনেক ব্যয়বহুল। এজন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্ভব নয়। তবে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সার্বক্ষণিক ভোটকেন্দ্রে থাকবে। ফলে কোন সমস্যা হবে না বলে মনে করেন তিনি।
প্রেসব্রিফিং-এ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ, মো. শাহ নেওয়াজ, ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান, যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলি ও জনসংযোগ পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান।
