মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে বাংলাদেশে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতায়, ভূমি ও অবকাঠামো দুর্বলতা, দক্ষ শ্রমিকের স্বল্পতা এবং দুর্বল ব্যবসায়িক পরিবেশ এদেশের বেসরকারি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের সক্ষমতা কম্বোডিয়া, চীন, ভারত, শ্রীলংকা থেকেও কম। বাংলাদেশের ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত প্রান্তিকের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি পর্যালোচনা করে অর্থনীতির হালনাগাদ প্রতিবেদন গতকাল প্রকাশ করেছে এডিবি।
এর আগে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০১৫ প্রতিবেদনে এডিবি উল্লেখ করেছে, চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগের প্রতিবেদনে ৬ দশমিক ৪ শতাংশের পূর্বাভাস ছিলো এডিবির। এর মূল কারণ হিসাবে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, রেমিটেন্স প্রবাহে ধীরগতি, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ হ্রাস পাওয়া এবং ভোক্তাদের আস্থা কমে যাওয়া জিডিপির গতি কমাবে। সেই সাথে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ কম হওয়াকেও দায়ী করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষুদ্র ও নির্মাণ শিল্প বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজস্ব আদায়কেও বাধাগ্রস্ত করে। এডিবি উল্লেখ করেছে, যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে ভোক্তা পর্যায়ে তবে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়বে, সেই সাথে প্রবৃদ্ধির গতিও বাড়বে।
আগামী ২০১৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে এডিবি। সেই সাথে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকাসহ ব্যাপক মুদ্রার প্রচলন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের এবং তেলের মূল্য কম হওয়ার প্রভাবে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতিও সহনীয় থাকবে।
