উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে দুই মহাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের বিকাশে একটি দৃঢ়ভিত্তি গড়ে তুলতে নতুন পন্থা উদ্ভাবনের লক্ষ্যে আফ্রো-এশিয়ান নেতৃবৃন্দ ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় একত্রিত হয়েছেন।
দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় মহাদেশের অংশিদারিত্ব জোরদার, অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কৌশল নিয়ে আলোচনা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে ৩ দিনের এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ৩৪ দেশের রাষ্ট্র প্রধান ও সরকার প্রধান এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন- চীন ও মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট এবং জাপান ও সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী।
৫৫ বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার বানদুং শহরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান-আফ্রিকান কনফারেন্সের ৬০তম বার্ষিকী স্মরণে এবং ২০০৫ সালে গঠিত নতুন এশিয়ান-আফ্রিকান স্ট্রেটেজিক পার্টনারশীপের (এনএএএসপি) দশম বার্ষিকী উপলক্ষে এবারের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
স্নায়ুযুদ্ধের চরম সময়ে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম) গঠন করতে বানদুং কনফারেন্স হিসেবে পরিচিত ১৯৫৫ সালে অনুষ্ঠিত এশিয়ান-আফ্রিকান কনফারেন্স এই মহাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
এশিয়ান ও আফ্রিকার ১০৫ দেশের প্রতিনিধি, ১৫ পর্যবেক্ষণ দেশ ও ১৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
৬০ বছর আগে শুরু হওয়া বানদুং চেতনার আলোকে জোটবদ্ধতার দৃঢ়করণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নেয়া এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির পন্থানুসরণের লক্ষ্যে দুই মহাদেশের প্রতিনিধিগণ এ গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাদের অভিমত ব্যক্ত করবেন।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর চ্যালেঞ্জ ও সংগ্রামের এখনো শেষ হয়নি। তিনি বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা জোরদারের ব্যাপারে এসব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের ওপর নতুনভাবে আলোকপাতের আহ্বান জানান।
তিনি দুই মহাদেশ জুড়ে স্থিতিশীলতার প্রয়াস ও সমতার সমর্থনে একটি নতুন সমন্বিত অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
জোকো উইদোদোর উদ্বোধনী ভাষণের আগে ইন্দোনেশিয়ার শিল্পীরা এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যান্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে যোগ দেন।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মধ্যে অংশ নেনÑ চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং, ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ট্রুং ট্যান স্যাং, মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ থেইন সেইন, জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ড মুগাবে, জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহ ইবনে আল-হাসান, নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশিল কৈরালা, ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী ড. রামি হামদুল্লাহ, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনজো আবে, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি হেইসেন লুং এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুনসেন।
