সাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে চমকে দিয়েছিলেন সবাইকে। চমকে দিয়েছিলেন সাংবাদিকদের সাথে দৌড়ে অংশ নিয়েও। আর এবার ক্রিকেট খেললেন আনিসুল হক।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী ক্রিকেট খেলছেন, তাও আবার শিশুদের সাথে! এ ব্যাপারটিও কম চমকের ছিল না, উপস্থিত দর্শকের কাছে।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবীর মুসলিম বাজারে নিজের প্রচারণার সময় সেখানে মাঠে শিশুরা ক্রিকেট খেলছিল। এ সময় তিনি হঠাৎ করেই প্রচারণা থামিয়ে ব্যাট হাতে নেমে পড়েন। স্কুল পড়ুয়া শিশুরাও বিপুল উত্সাহে বল করে আনিসুল হকের উদ্দেশে। কয়েকটি বল পরাস্ত হলেও কয়েকটি বল দক্ষতার সাথে সামলান তিনি। উপস্থিত দর্শকরা বেশ উপভোগ করে ব্যাপারটি। পরে আবারো প্রচারণায় ফিরে যান আনিসুল হক।
এদিকে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত এ মেয়র প্রার্থী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় বিরামহীন চলে তার এই প্রচারণা। সকালে মুসলিম বাজারের পর দুপুরে ১২ নম্বর মিরপুরের মোল্লা বস্তি, বাউনিয়া বাঁধ,মনিপুর স্কুল ও বিকেলে ভাষানকেট এলাকায় গণসংযোগ করেন।
এরপর তিনি সন্ধ্যায় মিরপুর ৮ নং কমিউনিটি সেন্টারে সহস্র নাগরিক কমিটি আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দেন। সহস্র নাগরিক কমিটির আহবায়ক সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সহস্র নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব গোলাম কুদ্দুছ, ঝুনা চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সুধী সমাবেশে বক্তারা আধুনিক ঢাকা গড়তে আনিসুল হককে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। সহস্র নাগরিক কমিটির আহবায়ক সৈয়দ শামসুল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শহরবাসী যাতে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারে, সেজন্যই সহস্র নাগরিক কমিটি আনিসুল হক ও সাঈদ খোকনের মতো সত্, সুযোগ্য, কর্মপ্রাণ, নীতিবান প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে।
নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, গত তিন মাস ধরে বিএনপি-জামায়াত যেভাবে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যাসহ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড স্থবির করার চেষ্টা করেছে, তাতে ঢাকার কোন সচেতন-বিবেকসম্পন্ন নাগরিক তাদের ভোট দিতে পারে না।
সুধী সমাবেশে আনিসুল হক সবার উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচিত করবেন। যে প্রার্থী নগরীর সমস্যার সমাধানে ও পরিবেশের উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক কাজ করার অঙ্গীকার করবেন, আপনারা তাকেই ভোট দেবেন।
তিনি নির্বাচিত হলে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ, স্মার্ট, সুশাসিত ও ‘মানবিক উন্নয়নের’ ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার করে বলেন, আমি নগরীর পিতা নই, নাগরিকদের বন্ধু হতে চাই।
আনিসুল হক বলেন, আমার লক্ষ্য নির্দিষ্ট। পরিকল্পনা স্বচ্ছ। কীভাবে প্রতিকূলতা পরাস্ত করে সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হয় তা আমি জানি। জীবন থেকে অর্জিত সব অভিজ্ঞতা আমি সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই।
