আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশে শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে শ্রমিকরা এখনো নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়—শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয় করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। ট্রেড ইউনিয়নের উদ্যোক্তাদের চাকরি থেকে বের করে দেয়া এমনকি নির্যাতনেরও অভিযোগ রয়েছে। ৪৪টি কারখানার ১৬০ জন শ্রমিকের স্বাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে ওই জরিপ প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্থাটি। বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
‘যারা মাথা তুলে দাঁড়াতে চায়, তারাই ভোগান্তির শিকার বেশি: বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় শ্রমিক অধিকার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে সরকার, মালিকপক্ষ ও ক্রেতারা শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়নের উদ্যোক্তাদের অবৈধভাবে ‘টার্গেট’ না করারও আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশকালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশীয় অঞ্চলের উপপরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন—আরেকটি রানা প্লাজা দুর্ঘটনা এড়াতে চাইলে বাংলাদেশকে শ্রম আইনের বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা দিতে হবে যাতে তারা নিরাপদ কর্মপরিবেশের আওয়াজ তোলার অধিকার পায়।
বেশ কিছু উদাহরণ তুলে ধরে রবার্টসন বলেন—একজন নারী শ্রমিক জানিয়েছেন তাকে কারখানার চেয়ারম্যানের কক্ষে নিয়েও মারধর করা হয়। তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনার দিন জোর করে শ্রমিকদের কাজ করানো হয়েছিল। শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলার মতো একটি ইউনিয়ন থাকলে সেটি ঘটতে পারত না। প্রতিবেদনে জানানো হয়—ট্রেড ইউনিয়ন ঠেকাতে বাইরের মাস্তান ভাড়া করেও মারধর করা হয়। নারী শ্রমিকদের অশ্লীল গালাগাল করা হয়। শ্রমিক ইউনিয়নের নিবন্ধন-প্রক্রিয়া সহজ করা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ ভাগের কম কারখানায় ইউনিয়ন আছে। দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় এখনো ট্রেড ইউনিয়নের সুযোগ নেই।
