বুধবার বিকালে রাজধানীর বাংলামটরে ব্যস্ততম সড়কে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে সহিংস হামলা চালানো হয়েছে।
হামলায় খালেদা জিয়াকে বহনকারী নিশান গাড়ির পিছনের দিকে বাম পাশের কাঁচ ভেঙ্গে গেলেও তিনি অক্ষত আছেন।
তিনি যে পাশে বসেছিলেন, সে পাশে পেছনের কাচটি ভাঙা হয়েছে। খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান। গাড়ির বাম্পারও ভেঙে পড়েছে ।
আক্রান্ত পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার গাড়িটি ক্ষীপ্র গতিতে সামনে এগিয়ে গেলে ধাক্কায় ২০ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সংগঠনিক সম্পাদক মো. লিটন (৩০), ক্রীড়া সম্পাদক মো. বাবু হাসান ও শাহবাগ থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাকির আহত হন।চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক আবদুল কাইয়ুম ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট সামিউল হকসহ দশজন আহত হয়েছেন।
লাঠিসোঁটা,হকিস্টিক-ক্রিকেটের স্ট্যাম্প,আধলা ইট দিয়ে এই অতর্কিতে আক্রমণ চালানো হয়। ভাংচুর করা হয় বহরে থাকা তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী সিএসএফের কয়েকটি গাড়ি। হামলাকারীরা সড়কের ওপর ফেলে বেধড়ক পিটিয়েছে সিএসএফ সদস্যসহ বহরে থাকা কয়েকজনকে।
চলন্ত অবস্থায় বাংলা মোটরে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি নিয়েই নয়া পল্টনে গিয়ে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন খালেদা জিয়া।
সেখানে দলের সিনিয়র ও ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’ এর নেতাদের ডেকে সেখানে বৈঠক করেন তিনি। পরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তার উপদেষ্টা এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, হত্যার উদ্দেশ্যেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। যতোই হামলা হোক, ম্যাডাম গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রাখবেন। আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করার চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বুধবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে প্রচারণার জন্য বের হওয়া খালেদা জিয়ার গাড়ীবহর বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে বাংলামোটর সিগনালে আটকা পড়ে।
এ সময় সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেয়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মশিউর রহমান রুবেল ও মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা এলোপাথাড়ি গাড়ী ভাংচুর শুরু করে।
সিগন্যাল উঠলে গাড়ি রওনা হওয়ার সময় কনকর্ড টাওয়ারের সামনে থেকে আরো দুর্বৃত্ত ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান দিয়ে গাড়ি বহরের দিকে ধেয়ে আসে। হামলাকারীদের দেখে নিরাপত্তা রক্ষীরা খালেদার গাড়ি ঘিরে ফেলে।
এর মধ্যেই লাঠি ও হকি স্টিক দিয়ে বিভিন্ন গাড়িতে সমানে আঘাত চলে। চেয়ারপার্সন সিকিউরিটি ফোর্স সিএসএফের চারটি গাড়ি ছাড়াও বেসরকারি দুটি টেলিভিশনের গাড়িও ভাংচুর হয়।
এ হামলায় আক্রান্ত কয়েকজন চালক আহত হয়েছেন। তাদের চোখেমুখে রক্তের দাগ দেখা গেছে। হামলার মধ্যেই গাড়িগুলো গতি বাড়িয়ে শেরাটন হোটেলে দিকে চলে যায়। তবে একটি গাড়ির চালক আব্দুল মান্নান এবং সিএসএফ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট সামিউল হককে সড়কে ফেলে পেটায় হামলাকারীরা।
দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। হামলার ভেতর রূপসী বাংলা মোড় হয়ে গাড়িবহর নিয়ে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কিছুক্ষণ থেমে পল্টন থানার মোড় ঘুরে এসে কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন তিনি।
এসময় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া কয়েকশ’ নেতা-কর্মী ‘খালেদা জিয়ার উপর হামলা কেন-শেখ হাসিনা জবাব চাই’, ‘খালেদা জিয়া এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে থাকে। আহতদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয় কার্যালয়ের ভেতরে।
প্রসঙ্গত, এই নিয়ে চতুর্থ দফা হামলা চালানো হলো। এর আগে মঙ্গলবার মির্জা আব্বাসের পক্ষে ফকিরাপুলে গণসংযোগ শেষে নয়াপল্টনের দিকে আসার পথে কাঁচা বাজারসংলগ্ন এলাকায় সরকার-সমর্থকদের হামলার শিকার হয় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর।
গত সোমবার প্রচারে নেমে কারওয়ান বাজারে খালেদা জিয়ার পথসভা ও গাড়িবহর সরকার-সমর্থক নেতা-কর্মীদের হামলা কবলিত হন।
গত রবিবারও উত্তরায় তিনি প্রচারে গিয়ে সরকার-সমর্থকদের বাধার মুখে পড়েন।
