বোলারদের পর সৌম্য-তামিম

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৫, ১১:০৯
প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে বিশাল ব্যবধানে জয়, পরের ম্যাচে পরে ব্যাট করেও বিশাল ব্যবধানে জয়। আর কী কিছু দেখানোর বাকী ছিলো?
 
ছিলো। বাংলাদেশ যে ম্যাচে প্রতিকূল পরিস্থিতির লড়াইয়ে কতো ভালো ফিরে আসতে পারে, সেটা দেখানোর বাকী ছিলো। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বোলাররা দেখালেন সেই ফেরার লড়াইয়ে নিজেদের দক্ষতা।
 
বিনা উইকেটে ৯১ ও ১ উইকেটে ২০৩ রান তুলে ফেলেছিলো পাকিস্তান। এখান থেকে তিন’শ বা সাড়ে তিন’শ রানের স্বপ্ন তারা দেখতেই পারতো। কিন্তু সমন্বিত এক আক্রমণে সেই স্বপ্নকে মাটিতে টেনে আনলেন বাংলাদেশের বোলাররা; ২৫০ রানেই অলআউট পাকিস্তান!
 
তবে দিনশেষে বোলারদের এই অসামান্য কীর্তি ঢাকা পড়ে গেল তামিম ইকবালের ছুটে চলা সৌন্দর্য ও সৌম্য সরকারের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে।
 
আগের দুই ম্যাচে টানা দুই সেঞ্চুরি করে এমনিতেই তামিম বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন। এ ম্যাচে শুরুটা খুব ভালো হলো না। তাই মনে হচ্ছিল, এবার বুঝি অন্য কারো পালা। কিন্তু একটু আস্তে ধীরে ৬১ বলে ৪১ রানে পৌঁছানোর পর এ ম্যাচেই বোলিংয়ে ফেরা হাফিজকে ছক্কা মেরে শুরু করলেন তাণ্ডব। একসময় মনে হচ্ছিল প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টানা তৃতীয় সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যাওয়া সময়ের ব্যাপার। শেষ পর্যন্ত ৬৪ রানে একটু বিতর্কিত এক আউটে শেষ হল তামিমের এই ইনিংস।
 
ফলে টানা তিন ইনিংসে তামিমের রান যথাক্রমে—১৩২, ১১৬* ও ৬৪!
 
এই তিন দানবীয় ইনিংসের কল্যাণে নিজেরই রেকর্ড ছাড়িয়ে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিপাক্ষিক কোনো সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে গেলেন তামিম। সেই সঙ্গে ৩ ম্যাচের সিরিজে বিশ্বেরই তৃতীয় সেরা রান সংগ্রাহকের নাম এখন তামিম ইকবাল।
 
তামিমের এসব রেকর্ডে সৌম্য একটু ঢাকা পড়েছিলেন। কিন্তু ব্যাট এদিন তারই বেশি তরবারী হয়ে উঠলো। পুরো ইনিংসের প্রতীক হয়ে রইলো আজহার আলীর বলে সৌম্যর ছক্কা মেরে সেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর দৃশ্যটা।
 
এর আগে দুরন্ত শুরু করা পাকিস্তানের ওপেনার সামি আসলামকে ১৮তম ওভারের শেষ বলে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান নাসির হোসেন। সাজঘরে ফেরার আগে নিজের ক্যারিয়ার শুরু ম্যাচে ব্যক্তিগতভাবে ৪৫ রান করার পাশাপাশি আজহারের সাথে ৯১ রানের জুটি গড়েন সামি।
 
উদ্বোধনীতে উড়ন্ত সূচনা করা পাকিস্তান এরপর খেই হারিয়ে ফেলে। ব্যাট করতে নেমে বরাবরের মতো ব্যর্থ মোহাম্মদ হাফিজ। দ্বিতীয় ম্যাচের মতো এদিনও আরাফাত সানির শিকার পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার। তৃতীয় উইকেট জুটিতে হারিস সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে ৯৮ রানের জুটি গড়েন আজহার আলী। দুই বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমে দুর্বার আজহার। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে ৭২ ও ৩৬ রান করা আজহার এদিন সেঞ্চুরি করে ফিরেন।
 
শতরান পূর্ণ করার পর নিজের ইনিংসটাকে দীর্ঘায়িত করতে পারেননি আজহার। সাকিব আল হাসানের শিকার হওয়ার আগে ১১২ বলে দশ বাউন্ডারির সাহায্যে ১০১ রান করেন আজহার আলী। তার বিদায়ের পর রীতিমতো নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। সময়ের ব্যবধানে উইকেট পড়ে গেলে  শুরুতে ভালো খেলা সত্ত্বেও সম্মানজনক স্কোর গড়তে পারেনি পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত হারিস সোহেলের করা ৫২ এবং সাদ নাসিমের করা ২২ রানের কল্যাণে ২৫০ রান তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। বাংলাদেশ দলের হয়ে দুটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেন ও আরাফাত সানি।
 
তিন ম্যাচ সিরিজের বিশ্বসেরা
 
এক আসরে বাংলাদেশের সেরা
 
ব্যাটসম্যান               ম্যাচ       সিরিজ                    রান           গড়
 
মাহমুদউল্লাহ             ৬           বিশ্বকাপ-১০১৫       ৩৬৫         ৭৩.০০
 
তামিম ইকবাল          ৩           পাকিস্তান-২০১৫      ৩১২          ১৫৬.০০
 
তামিম ইকবাল          ৫           জিম্বাবুয়ে-২০০৯      ৩০০         ৬০.০০
 
মুশফিকুর রহিম         ৬           বিশ্বকাপ-২০১৫       ২৯৮          ৪৯.৬৬
 
শাহরিয়ার নাফীস      ৫           জিম্বাবুয়ে-২০০৬      ২৭৪          ৬৮.৫০
 
ব্যাটসম্যান               রান        গড়                       প্রতিপক্ষ       সাল
 
কুইন্টন ডি কক         ৩৪২       ৯৫.২৬                  ভারত         ২০১৩
 
মার্টিন গাপটিল          ৩৩০      ১০৫.০৯                ইংল্যান্ড        ২০২৩
 
তামিম ইকবাল          ৩১২       ১৫৬.০০                পাকিস্তান      ২০১৫