অভিনয়ে সবসময়ই নতুন কিছু নিয়ে কাজ করে এমন অভিনেতার সংখ্যা খুব বেশি নেই। সেই অল্প ক’জন অভিনেতার অন্যতম হলেন জনি ডেপ। সবসময়ই নতুন কিছু করতে পছন্দ করেন ‘পাইরেটস অব ক্যারিবিয়ান’ খ্যাত অভিনেতা জনি ডেপ। নিত্যনতুন চরিত্রকে জীবন্ত করতে তার জুড়ি নেই। সম্প্রতি আবারও পর্দা কাঁপাচ্ছেন তার নতুন সিনেমা ‘মর্টডেকাই’ দিয়ে। তার কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’, ‘দ্য লোন রেঞ্জার’-এর পর জনি ডেপ আরও একবার কমিক চরিত্রে হাজির হচ্ছেন তার পরবর্তী সিনেমা ‘মর্টডেকাই’-এ। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া এ সিনেমাটিতে তার চরিত্র একজন ছবি ব্যবসায়ীর। তবে সিনেমাতে দেখা যায়, এই ব্যবসা করতে গিয়ে বিভিন্ন জনের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে যান তিনি। তবে বুদ্ধির সাথে সবকিছুই মোকাবেলা করে বেরিয়ে আসেন। এভাবেই শুরু হয় সিনেমা। দেখা যায় সোভিয়েত-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধের সময়টাতে রগচটা রুশ, ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের দল আর নিজের অসামান্য আবেদনময়ী স্ত্রী—এদের সবাইকে সামলে তিনি নেমে পড়েছেন পুরোনো এক চিত্রকর্মের খোঁজে। এটি খুঁজে বের করতে পারলেই মিলবে নািসদের লুট করা বিশাল স্বর্ণভাণ্ডারের খোঁজ। মর্টডেকাই তাই নিজের উপস্থিত বুদ্ধি, জুয়ায় জেতার ভাগ্য আর সুন্দর চেহারাকে সম্বল করে শুরু করেন তার অভিযান। তবে উচ্চবংশীয় মর্টডেকাই ভৃত্য ছাড়া কোথাও যান না। তাই তার অভিযানেও তার মালামাল বহন কিংবা ফুট-ফরমায়েশ খাটার জন্য সঙ্গে থাকে একজন ভৃত্য। এমনই এক দুর্ধর্ষ কিন্তু হাসির খোরাক জোগানো চরিত্রকে কেন্দ্র করেই চারটি উপন্যাসের আস্ত একটি সিরিজই লিখে ফেলেছিলেন ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক কিরিল বনফিগলিওলি। সেই চরিত্রটিকে রুপালি পর্দায় নিয়ে এসেছেন ডেভিড কোয়েপ। লায়ন্সগেটের ব্যানারে এ সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন গিনেথ প্যালট্রো, ইয়ান ম্যাকগ্রেগর, পল বেটানি, জেফ গোল্ডব্লুম এবং অলিভিয়া সহ আরও অনেকে।
সিনেমা মুক্তির আগে জানানো হয়েছিল, সিনেমাটি হাস্যরসে ভরা, ‘জনি ইংলিশ’ কিংবা ‘পিংক প্যানথার’-এর মতো হতে যাচ্ছে। মুক্তির পর সে কথার প্রমাণও পাওয়া গেছে। তবে, এখানে বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে জনি ডেপের নিজস্ব স্টাইল।
একজন মার্কিন অভিনেতা, চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং সুরকার। তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার এবং স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার জিতেছেন। ১৯৮০’র দশকের টিভি সিরিজ ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’-এর মাধ্যমে ডেপ তার অভিনয় জীবন শুরু করেন। এরপর তিনি আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভূমিকার জন্য চলচ্চিত্রের দিকে পা বাড়ান। ‘এডওয়ার্ড সিজারহ্যান্ডস’ (১৯৯০) চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র অভিনয় করে তিনি প্রশংসিত হন। এরপর তিনি ‘স্লিপি হোলো’ (১৯৯৯), ‘চার্লি অ্যান্ড দ্য চকলেট ফ্যাক্টরি’ (২০০৫), ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ (২০১০), ‘রিঙ্গো’ (২০১১) এবং ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সফলতা পান। ডেপ আটটি চলচ্চিত্রে তার বন্ধু ও চলচ্চিত্র পরিচালক টিম বার্টনের সাথে কাজ করেছেন।
