নয় বোলার, নয় ব্যাটসম্যান!

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৫, ১৬:৫৫
হ্যানসি ক্রনিয়ের দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে একটা কথা প্রচলিত ছিলো—ডোনাল্ড ব্যাট করতে পারেন না, উইকেটরক্ষক বল করেন না; এ ছাড়া সবাই সবকিছু করেন!
 
কথাটা হয়তো পুরোটা সময়ের জন্য আক্ষরিক সত্যি নয়। তবে এটা ঠিক যে, এমন একটা দলের স্বপ্ন আসলে সব অধিনায়কই দেখেন। অন্তত সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ৭-৮ জন অলরাউন্ডারকে দলে কে না স্বপ্নের দিনটাতে আশা করেন!
 
বাংলাদেশকে কোনোক্রমেই সেই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে তুলনা করাটা ঠিক হবে না। তবে এটুকু অন্তত মাশরাফি দাবি করতে পারেন যে, তার দলেরও এখন উইকেটরক্ষক ছাড়া সবাই এক একজন করে বোলিং অপশন। আর রুবেল-তাসকিন ছাড়া সবাই স্কোর বোর্ডে রান জমা করে যেতে পারেন।
 
গতকালও বাংলাদেশ দল গুণে গুণে আটজন বোলার ব্যবহার করে ফেললো; যার এক জনকেও ‘পার্ট টাইমার’ বলে ছোট করা কঠিন। এই আট জনের মধ্যেও ব্যবহার করা হয়নি দিব্যি পেস বোলিং অপশন হিসেবে থাকা সৌম্য সরকারকে। মানে, মাশরাফির হাতে এখন নিশ্চিত করেই নয়টি বোলিং অপশন থাকছে প্রতি ম্যাচে।
 
খাটি অলরাউন্ডারের দল যাকে বলে!
 
এমন কার্যকর অলরাউন্ডারি বোঝাই দলের কথা বাংলাদেশের জন্য কল্পনা করেছিলেন ডেভ হোয়াটমোর। ২০০৬ সালে তার এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এক ঝাঁক ‘মিনি অলরাউন্ডার’ জায়গা পেয়েছিলেন দলে।
 
তবে সে সময় হোয়াটমোরের এই পলিসি নিয়ে বিতর্কও ছিলো। হোয়াটমোর স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান বা বোলারের চেয়ে কার্যকর অলরাউন্ডার; যারা ব্যাটসম্যান বা বোলার নির্দিষ্ট কোনো চেহারায় দলে ঠাঁই না পেতে পারেন; এমন খেলোয়াড়ে বেশি জোর দিয়েছিলেন। ফলে দলের ব্যাটিং ও বোলিং দু ক্ষেত্রে অপশন বাড়লেও ধার কমে যাচ্ছিল বলে মনে করা হয়।
 
আর এখানেই বাজিমাত করে ফেলেছে মাশরাফির এই দল।
 
মাশরাফিদের এই দলে নিখাদ অলরাউন্ডার একমাত্র সাকিব আল হাসান। যাকে আপনি বোলার বা ব্যাটসম্যান যে কোনো পরিচয়েই তুখোড় স্পেশালিস্ট হিসেবে যে কোনো দলে ঢুকিয়ে দিতে পারেন। এখানেই এক ধাপ এগিয়ে গেলো অপশন বেছে নেওয়ার সুযোগ।
 
এরপর যে বোলিং অপশনগুলো কাজে লাগাচ্ছেন মাশরাফি, তারা হলেন—মাহমুদউল্লাহ, নাসির, সাব্বির এবং আছেন সৌম্য। এরা চার জনই দলে খেলছেন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে। কিন্তু বোলার হিসেবে আবার সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এদেরকে আপনার ‘অপরিহার্য’ বলেই মনে হবে। রিয়াদ কিছুদিন আগেই ১০ ওভার নিয়মিতই বল করতেন। সাব্বির ক দিন আগেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছে; লেগস্পিন-অফস্পিন দুটোই সমানে করতে পারেন। আর সৌম্য দলে সুযোগই পেয়েছিলেন মূলত বাড়তি পেস বোলারের একটা অপশন তৈরি করার ক্ষমতার কারণে। নাসিরের ব্যাপারটা আরও চমত্কার। মূলত বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান তিনি। অধুনা একটু লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং করার সুযোগ কম থাকায় তিনি বোলিংয়ে জোর বাড়িয়েছেন। ফলে নিয়মিত পাওয়ার প্লেতে পর্যন্ত বল করছেন!
 
আবার আরাফাত সানি ও মাশরাফি বিন মুর্তজার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা জরুরী। এরা দু জন দলে খেলছেন বিশেষজ্ঞ বোলার হিসেবে। কিন্তু এদের ব্যাটের হাতলটা যে লম্বা, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। সদ্য শেষ হওয়া বিসিএলে নিজের দলকে ব্যাট হাতে চ্যাম্পিয়ন করে এসেছেন সানি। আর মাশরাফি টানা দু ম্যাচে ফিফটি করে পুরোনো চেহারাটা দেখিয়ে দিয়েছেন।
 
এবার হিসাব করুন, কতোগুলো খেলোয়াড়কে দুই ভূমিকায় পাচ্ছেন? সাকিবসহ কমপক্ষে সাত জনকে। বাদ রইলেন তামিম, মুশফিক, রুবেল ও তাসকিন। এর মধ্যে তামিমের অফস্পিন ও রুবেলের হঠাত্ হঠাত্ ছক্কাকে আমরা না হয় ছাড়ই দিলাম। তাদের স্পেশালিস্টই ধরে রাখলাম। তারপরও অধিনায়কের সামনে নয়টি বোলিং অপশন ও নয় জন ব্যাটসম্যানকে পাঠাতে পারছি আমরা।
 
এবার বেছে নিন।
 
আর বেছে নিতে পারলে অধিনায়ক মাশরাফি কী কী উপহার দিতে পারেন, তা এখন বিশ্ব অনেকটাই জেনে ফেলেছে।