কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, যারা গণতন্ত্রের নামে স্বেচ্ছাচারী ও গণবিরোধী কার্যকলাপ করে তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা সাজে না। আন্দোলনের নামে দেশের সাধারণ মানুষকে যেভাবে পেট্রোলবোমা দিয়ে হত্যা করে বেগম খালেদা জিয়া পাশবিক উল্লাস দেখিয়েছেন, দেশের জনগণ তাকে ক্ষমা করবে না।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল) এর উদ্যোগে ‘ঐতিহাসিক খাপড়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল) এর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য মঞ্জুরুল আহসান খান, কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ,কমরেড এমএ করিম,হারুন অর রশীদ।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ১৯৫০ সালে মুসলিমলীগ সরকার রাজশাহীর কেšদ্রীয় কারাগারের খাপড়া ওয়ার্ডে যেভাবে হত্যাকান্ড চালিয়েছিল সেই একই কায়দায় বর্তমানে নিরীহ মানুষ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে।এসব হত্যাকান্ড নিকষ কালো। এদের মানসিকতাও জমাটবাঁধা অন্ধকার।
তিনি বলেন, বিরোধীদল ইসলামের কথা বলে অথচ তারাই ধর্মের নামে অন্তঃস্বত্ত্বা নারীসহ নানা বয়সী মানুষকে পুড়িয়ে মেরে নিজেদের ইতর, পিশাচ ও নিলর্জ্জ হিসেবে প্রমাণ করেছে।
এইসব মানবতা বিবর্জিত দানবের কাছ থেকে হিতোপদেশ নিতে হবে না কি? উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কখনো পাকিস্তানী দোসরদের কাছ থেকে হিতোপদেশ নেয়নি আর ভবিষ্যতেও নিবে না।
খাপড়া ওয়ার্ডেও বিপ্লবীদের ওপর তৎকালীন পাকিস্তানি ফ্যাসীবাদীরা যে নির্যাতন চালিয়েছিল তা জাতি কখনো ভুলবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেসব শহীদদের আত্মদান ও তাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন বৃথা যাবে না।
সেদিন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাদের স্বেচ্ছাচারী গণবিরোধী চিন্তাভাবনা ও সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির মধ্য দিয়ে চলেছিল। তার প্রমাণ ’৭৫ এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যাসহ জাতীয় নেতাদের হত্যা করা। সেই অপশক্তি আজও দেশকে রুখতে চাইছে। কিন্তু দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ উন্নয়ন কেউ রুখতে পারবে না।
এসময় তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান। যারা মৌলবাদীদের পৃষ্ঠপোষক তাদের আবার গণতান্ত্রিক অধিকার কিসের উল্লেখ করে দিলীপ বড়ূয়া বলেন, যারা প্রেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করে অসুস্থ মানুষদের যিনি হাসপাতালে দেখতে যান না, তিনি আবার জনগণের কাছে ভোট ভিক্ষা চান।খালেদা জিয়ার লজ্জা হওয়া উচিত।
আগামীকাল ঐতিহাসিক খাপড়া ওয়ার্ড দিবস। ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহীর কেন্দ্রীয় কারাগারের খাপড়া ওয়ার্ডে তৎকালীন পাকিস্তানী ফ্যাসীবাদী শাসকদের গুলিবর্ষণে ৮ জন বিপ্লবী শহীদ হয়েছিলেন।
