জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, বর্তমানে আমাদের সমাজে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। মানবাবিধকার লঙ্ঘনের এই অবস্থাকে আর মেনে নেয়া যায় না। ইংরেজিতে একটা কথা আছে ‘এনাফ ইজ এনাফ’। যথেষ্ট হয়েছে আর নয়, রাষ্ট্র তুমি এবার সংযত হও। তোমাকে সংযত হতেই হবে। কেননা এ রাষ্ট্র সবার। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও রাষ্ট্র নিজেই সংবিধান লঙ্ঘন করছে। সংবিধানের উল্টো পথে চলছে রাষ্ট্র। এটা কখনোই মেনে নেয়া যায় না। মানবাধিকার কর্মীরাও এটা মেনে নিবে না। রাষ্ট্রের এ আচরণ প্রত্যাখ্যানযোগ্য, আমরা ঘৃণা করি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘যৌনকর্মীর জীবন ও জীবিকার অধিকার বিষয়ক’ প্রতীকী গণশুনানির প্রধান বিচারকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সেক্সওয়ার্কারস নেটওয়ার্ক, সংহতি (যৌনকর্মীদের অধিকার আন্দোলনে নাগরিক জোট) এবং সোয়াসা (সেক্স ওয়ার্কারস এলাইস সাউথ এশিয়া) এর যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতীকী গণশুনানিতে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির, সেক্স ওয়ার্কারস নেটওয়াকের সভাপতি হেনা, ব্লাস্টের কো-অর্ডিনেটোর অ্যাডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী, ব্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম, অধ্যাপক হিলাল উদ্দিন খান আরেফিন প্রমুখ।
এসময় টাঙ্গাইল, খুলনা এবং ঢাকা ও এর আশপাশের অঞ্চলে বসবাস করা ভাসমান ও স্থায়ী, বিভিন্ন বয়সের ৭জন যৌনকর্মী শুনানিতে জবানবন্দী দিয়েছেন। জবানবন্দীতে তারা পেশাগত কারণে তাদের উপর করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, খদ্দের, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষের অত্যাচার, নির্যাতন এবং সহিংসতার কথা তুলে ধরেছেন। উদাহরণ দিয়ে তারা জানিয়েছেন কি করে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
ড. মিজান বলেন, সংবিধানের ২৭নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান আর ৩১নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের সমান অধিকার রয়েছে। অথচ আমরা দেখছি, যৌন কর্মীদের মামলা নেয়া হয় না। দিনের পর দিন তারা মামলার জন্য যাচ্ছেন। উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা করে আটকিয়ে রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ৪২নং অনুচ্ছেদে সম্পত্তির অধিকারের কথা বলা হয়েছে। অথচ আমরা কি দেখছি যৌন কর্মীদের সম্পত্তি জোর করে লুট করা হচ্ছে। আর রাষ্ট্র তাকিয়ে তাকিয়ে সেই তামাশা দেখছে। মানবাধিকার চেয়ারম্যান বলেন, যৌনকর্মীদের শিশু কখনোই অবৈধ শিশু নয়। কে বলেছে যৌন কর্মীদের শিশু অবৈধ শিশু? একটা শিশু কখনোই অবৈধ হতে পারে না। এই দোষ তো যৌনকর্মীদের নয়। অবৈধ শব্দটি এনেছে এমন সমাজ, যে সমাজ নিজেই কলুষিত।
তিনি আরো বলেন, যেসকল যৌনকর্মী শেষ পর্যন্ত এই পেশা বেছে নিয়েছেন তার পিছনে অত্যন্ত দুঃখ, কষ্ট ও বেদনার ঘটনা রয়েছে। এই পেশা বেছে নেয়ার পেছনে যদি কোন ব্যর্থতা থেকে থাকে তাহলে সেটা যৌনকর্মীদের নয়। সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকারের।
