সুজনের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

স্থানীয় সরকার সংস্কার করে নগর সরকার করতে হবে

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৫, ২১:১৫
 
রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে নগর বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনরা বলেছেন—রাজধানী ঢাকার তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে ওঠার সব সম্ভাবনাই রয়েছে। কিন্তু দেশের সরকারগুলো নগরীর সেবা ও প্রশাসন ব্যবস্থাকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে নগর সরকার তৈরি করেনি। বরং ঢাকাকে বিভিন্ন সময় খন্ডিত করা হয়েছে।
 
ঢাকাকে খন্ডিত করে নয়, অখন্ড রেখেই প্রকৃত উন্নয়ন করা সম্ভব। উন্নত শহর ও নাগরিকদের জীবনমান নিশ্চিত করার জন্য নগরীর সকল সেবাপ্রতিষ্ঠানকে একক কর্তৃপক্ষের অধীনে আনতে হবে। রাজধানীর উন্নয়নের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অন্যান্য জেলায়ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার বিকল্প নেই। আর এর জন্য স্থানীয় সরকার সংস্কার করে নগর সরকার করতে হবে।
 
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নগর সরকারই সমাধান’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
 
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও আমরা নির্বাচিত জেলা পরিষদ পাইনি। আমরা যেন পিছনের দিকে যাত্রা করছি। মেয়রদের দাবির পরও বিগত সরকারগুলো নগর সরকার প্রতিষ্ঠা করেনি। তাই নগর সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিক সমাজকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’
 
নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নগর সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন দীর্ঘদিনের। এ আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনেক প্রার্থীই নির্বাচিত হলে নগর সরকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এটি আশার দিক।’
 
অনুষ্ঠান সঞ্চালনাকালে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের সংবিধানের ৫৯নং অনুচ্ছেদে আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে।
 
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা সীমিত থাকলে এবং নগর সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। দুই সিটি করপোরেশন দিয়ে নগর সরকার প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। তাই নগর সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিকে জনদাবিতে পরিণত করতে হবে।’
 
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘প্রতিটি রাজনৈতিক দলই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। তাই এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। নগর সরকার ছাড়া নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়।’  
 
সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘মেয়রদের পর্যাপ্ত ক্ষমতা না থাকায় তারা উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন করতে পারেন না। তারা নিধিরাম সর্দারে পরিণত হন। তাই নগর সরকার প্রতিষ্ঠা করে একক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা করা দরকার। এ জন্য স্থানীয় সরকার আইনের আমূল সংস্কার করে নগর সরকার প্রতিষ্ঠাি করতে হবে।’ 
 
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে গবেষক-সাংবাদিক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে সুশাসন ও সেবা নিশ্চিত করতে হলে বর্তমান সিটি করপোরেশন কাঠামোতে আর তা পুরাপুরি সম্ভব নয়। মহানগরী শাসনের প্রধান সমস্যা হলো—একক কর্তৃপক্ষের অভাব। ঢাকায় ৫৬টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা রয়েছে। এগুলোর আটটি মন্ত্রণালয়ের অধীন। প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় তাদের নীতি অনুযায়ী তাদের প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিচালনা করে। ফলে মেয়রের পক্ষে ৫৬টি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া সম্ভব হয় না। উন্নত শহর ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য সকল সেবা সংস্থাগুলোকে একক কর্তৃপক্ষের অধীনে নিয়ে আসতে হবে।
 
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, রাজনীতিক ইনাম আহমেদ চৌধুরী, রুহিন হোসেন প্রিন্স, এ এস এম আকরাম, অধ্যাপক আকতার মাহমুদ, অধ্যাপক নাজমা হাসিন, বাহরানে সুলতান বাহার, ড. ক্যাপ্টেন রেজাউল করিম চৌধুরী, মো. জামান ভূঞা, কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ।