নির্বাচনে থাকছে বিএনপি

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৫, ০০:০৮

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পরপর তিনদিন হামলার মুখে পড়লেও এবং মাত্র একদিনের ব্যবধানে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত সংশোধন করে ভোটের দিন সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ও রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে সেনানিবাসেই অবস্থান করবে বলে জানালেও তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের মাঠ থেকে সরছে না বিএনপি। কারণ দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিশ্বাস—সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ভোটে ইতিবাচক ফল মিলতে পারে। আর নির্বাচনে কারচুপি হলে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত করবে। এছাড়া এই নির্বাচনের উছিলায় তিন মাসের লাগাতার অবরোধ-হরতালের আন্দোলনে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ও আত্মগোপনে চলে যাওয়া নেতা-কর্মীদের মনোবলও কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন বিএনপির নীতিকাররা।

 
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে (অব.) মাহবুবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন,  ‘সরকারদলীয় ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে যতই প্রতিকূলতা তৈরি করুক না কেন, বিএনপি নির্বাচনে থাকার পক্ষে। কারণ জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে, ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে এই হামলার জবাব দেবে। খালেদা জিয়াও প্রচার থেকে সরে যাবেন না।’ দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্রি. জে. (অব.) আ.স.ম হান্নান শাহও অভিযোগ করে বলেছেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করছে সরকার। কিন্তু বিএনপি সরবে না।’
 
ঢাকায় দল সমর্থিত দুই মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচারণায় নেমে সোম, মঙ্গল ও বুধবার পরপর তিনদিন হামলার কবলে পড়া খালেদা জিয়া অবশ্য গতকাল বৃহস্পতিবার বাসা থেকে বের হননি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,  তিন দিনের হামলায় খালেদা জিয়ার গাড়িসহ তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের গাড়িগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কার্যত ‘গাড়ি সংকটে’র কারণে তিনি গতকাল প্রচারণায় নামেননি। খালেদা জিয়ার গাড়িতে ও তার বহরের একটি গাড়িতে নতুন কাচ লাগানোসহ গতকাল মেরামত করা হয়েছে। তবে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী—সিএসএফের ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি গাড়ি ওয়ার্কশপে মেরামতে রয়েছে।
 
গাড়িগুলো মেরামত শেষে আব্বাস ও তাবিথের জন্য ভোট চাইতে আজ বা আগামীকাল ফের প্রচারণায় নামতে পারেন বিএনপি প্রধান। এছাড়া দফায় দফায় হামলার ঘটনাসহ সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সামগ্রিক পরিস্থিতি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে প্রচারণার শেষদিন ২৬ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনেও তার আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
 
বুধবার বাংলামটরে খালেদা জিয়ার গাড়ি ও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা হামলার শিকার হওয়ার পর তাত্ক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনও বলেছেন, ‘এসব হামলার পরও আমাদের রোখা যাবে না। আমরা শেষ পর্যন্ত দেখে যাবো। দেখি সরকার কী করতে পারে, কতদূর যেতে পারে।’ খালেদা জিয়া প্রচার অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ইত্তেফাককে বলেন, ‘সরকার ভেবেছিল আন্দোলনে থাকা বিএনপি সিটি নির্বাচনে আসবে না। তবে আন্দোলনের অংশ হিসেবেই বিএনপি এই নির্বাচনে এসেছে এবং শেষ পর্যন্ত থাকবে।’
 
বিএনপি নেতারা মনে করছেন— নির্বাচনে আসলেও সরকার চাচ্ছে না খালেদা জিয়া দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের জন্য ভোট চাইতে রাস্তায় নামুক। খালেদা জিয়াকে প্রচারণা থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দেয়াও তার গাড়িবহরে হামলার মূল লক্ষ্য। যাতে এই ঘরানার ভোটাররা ভোটের দিন কেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন। বুধবার হামলার মুখে পড়ার পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। বৈঠকে প্রায় সব নেতাই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভোটের লড়াইয়ে থাকার পক্ষে মত দেন বলে একাধিক সূত্র ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছে।
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপিসহ ২০ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসও গতকাল প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সরকার আমাদের জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়ে খালেদা জিয়ার ওপর এবং আমাদের প্রচারণায় হামলা করছে। সেনা মোতায়েন নিয়েও ইসি সিদ্ধান্ত পাল্টেছে। তবে যাই হোক না কেন, আব্বাস ভোটের লড়াইয়ে থাকবেন। সরকারের আচরণে আমরা ভীত নই।’
 
এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে সরকার ও ইসি কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এই অভিযোগ করে বলেছেন, বিএনপি দাবি করেছিল প্রত্যেক কেন্দ্রে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একচোখা নীতি নিয়ে চলছে।
 
ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মসূচি
 

খালেদা জিয়ার গাড়িতে হামলা এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে কাল শনিবার দেশের সব জেলা, মহানগর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। অভিন্ন প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আজ শুক্রবার সারাদেশে উপজেলা, জেলা ও মহানগরীতে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে। গতকাল সংগঠন দুটির পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়।