রানা প্লাজার নামে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোন তহবিল নেই। সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আলাদা কোনো তহবিল অতীতেও ছিলো না। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার এ তথ্য জানান। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অর্থ বণ্টন নিয়ে স্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’র (টিআইবি) এক প্রতিবেদন ও এর সূত্র ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দিতে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর দুটি তহবিল রয়েছে। একটি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল। অপরটি প্রধানমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল। এর বাইরে আর কোন তহবিল নেই। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে সারাবছর কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষসহ সমাজের দুঃস্থ ও পীড়িত মানুষদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। দানশীল ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকেন। কোন দুর্যোগ হলে এ দানের পরিমাণটা বেশি থাকে। এ তহবিলে কোন সরকারি বাজেট বরাদ্দ থাকে না। অপরদিকে স্বেচ্ছাধীন তহবিলে সরকারি আর্থিক বরাদ্দ থাকে এবং এ তহবিল থেকেও বিভিন্ন সহায়তা, অনুদান প্রদান করা হয়।
টিআইবি সম্প্রতি তাদের একটি প্রতিবেদনে বলেছে, ‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর হতাহতদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে প্রায় ১২৭ কোটি টাকা জমা পড়ে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এ পর্যন্ত ব্যয় করা হয়েছে মাত্র ১৯ কোটি টাকা। বাকি টাকাও ক্ষতিগ্রস্তদেরই প্রাপ্য’। —এ প্রসঙ্গে মহাপরিচালক জানান, ‘রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে এ পর্যন্ত ২২ কোটি ৯৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭২০ টাকার সহায়তা দেয়া হয়েছে’। যে কোন বিষয়ে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারো কোন কিছু জানার থাকলে আমাদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন। সেজন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত রয়েছি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে আর্থিক অনুশাসন মেনে চলা হয় এবং তহবিলগুলোর নিয়মিত অডিট হয়ে থাকে।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকের সহায়তা না পাওয়া প্রসঙ্গে শ্রমসচিব মিকাইল শিপার বলেন, রানা প্লাজায় নিহতদের মধ্যে ১৬৬ জনকে শনাক্ত করা যায়নি। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তাদের সনাক্ত করা হচ্ছে। এরমধ্যে ৩৯টি জেলা থেকে ১০৪ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ৬২ জনের তথ্য আসলে তাদের বিষয়ে জানা যাবে।
বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন সবাইকে প্রপাগাণ্ডার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম টিআইবির প্রতিবেদনের সমালোচনা করে তারা কিসের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে তা জানতে চান।
প্রসঙ্গত, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় সব মিলে ১ হাজার ১৩৫ জন মারা যান। এছাড়া ২ হাজার ৪২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
