শহীদ আফ্রিদি এর আগে শুধু ক্রিকেট খেলতেই ১২ বার বাংলাদেশে এসেছেন। এ ছাড়া ব্যবসা, বিজ্ঞাপনের কাজেও এসেছেন বার কয়েক। কিন্তু এমন অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি; নিজেদের এমন অবমাননাকর পরাজয়ের সাক্ষী বাংলাদেশে কখনো হতে হয়নি।
ওয়ানডে দলে না থাকলেও বাইরে বসে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর কাছে পাকিস্তানের বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া দেখেছেন। আর সেই দেখার সুবাদেই বলছেন, এই বাংলাদেশ আসলেই বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশ। বিপরীতে যে নিজেদের দলটি ওয়ানডেতে হোয়াইট ওয়াশ হয়েছে, তাদের আরেকটু সময় দিতে হবে বলে বলছেন শহীদ আফ্রিদি।
আজকের টি-টোয়েন্টি ম্যাচকে সামনে রেখে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসেই পাকিস্তানের এই অধিনায়ক বললেন, ‘কোন সন্দেহ নেই বাংলাদেশ দল এই মুহূর্তে অনেক ভাল খেলছে। দলবদ্ধভাবেই খেলছে তারা। বিশ্বকাপে তারা ভাল করেছে এবং খুব ভাল ছন্দে আছে। আমাদের দলের ক্ষেত্রে যখন তিন-চার জন সিনিয়র খেলোয়াড় থাকবে না, যখন নতুন মুখ নিয়ে এগোতে হবে এবং নতুন অধিনায়কের অধীনে নতুন ছেলেরা খেলবে; অবশ্যই দল গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সময় লাগবে। আমি আশাবাদী কয়েক মাসের মধ্যেই তারা সামগ্রিকভাবে ভাল করতে পারবে।’
পাকিস্তানের এই টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক নানা যুক্তি দিয়েই বোঝাতে চাইলেন, ওয়ানডে দলের এই ব্যর্থতা খুব অস্বাভাবিক নয়, ‘এটা সহজ নয়। কিছুসংখ্যক সিনিয়র ক্রিকেটার দল ছেড়ে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া দেড় বছর সংগ্রাম করেছে। আপনারা যদি অস্ট্রেলিয়া দলের নৈপুণ্য দেখেন তবে বুঝতে পারবেন তাঁরাও জানতো না কিভাবে একটি টুর্নামেন্ট জিততে হয়। যদি দুই-তিন জন বাংলাদেশি খেলোয়াড় সরে দাঁড়ায় তারা আবার সংগ্রামের মুখে পড়বে। আমি মনে করি সিনিয়র খেলোয়াড়রা অতীতে অনেক ভাল করেছে।’
তবে আফ্রিদি দাবি করছেন ওয়ানডেতে এই হোয়াইট ওয়াশের প্রভাব তার টি-টোয়েন্টি দলের ওপর পড়বে না, ‘আমার ধারণা এটা শেষ হয়ে গেছে। এটা এখন ইতিহাস। এখন নতুন ফরম্যাট। আমি, সোহেল তানভীর, উমর গুল, সাঈদ আজমল এবং মোহাম্মদ হাফিজ সবাই ফিরে এসেছে। টি-টোয়েন্টিতে সমন্বয়টা আমাদের অনেক ভাল। আমি খুবই ইতিবাচক এবং আত্মবিশ্বাসী যে আমরা ভাল করতে পারব।’
সাঈদ আজমলের প্রসঙ্গ উঠতেই অবশ্য এক সময়ের সেরা এই স্পিনারের ব্যর্থ প্রত্যাবর্তন নিয়েও কথা উঠলো। আফ্রিদি এখানেও আশাবাদী। তিনি মনে করেন, আজমল খুব দ্রুত স্বরূপে ফিরবেন, ‘আপনি যদি বোলিং অ্যাকশনে পরিবর্তন আনেন সেক্ষেত্রে নতুন ধ্যানধারণা নিয়ে আসবেন। সে খুবই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। আমি মনে করি সে আরও বেশি খেলে দ্রুত মানিয়ে নেবে। আমি তাঁর বিষয়ে ইতিবাচক যে সে ভবিষ্যতে ভাল করবে।’
সবমিলিয়ে বাংলাদেশের প্রশংসা করতে কসুর আফ্রিদি করছেন না। তবে বার বারই বলছেন, সময়টা বদলেছে। নতুন ফরম্যাটে তারা আশাবাদী, ‘এই মুহূর্তে যদি বাংলাদেশ দলের দিকে তাকান তাহলে বলতে হবে দারুণ সমন্বয় নিয়ে তারা বেশ ভাল খেলছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে একই দল ধরে রেখেছে। আর আমাদের অনেক নতুন খেলোয়াড় এসেছেন। অবশ্যই সিরিজ হারটা অনেক বড় হতাশার। কিন্তু বর্তমান দলের অবস্থা বুঝেই প্রত্যাশার বিষয়টা আসা উচিত। এটা অবশ্যই ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস ও ইনজামাম-উল-হকের যুগ নয়।’
