‘আর কোনো গার্মেন্ট শ্রমিকের সন্তান যেন বায়ার, মালিক, সরকার এবং বিজিএমইএর অবহেলার কারণে আমাদের মতো এতিম না হয়’ এই দাবি জানিয়ে প্রতীক অবস্থান নিয়েছে রানা প্লাজা দুঘটনায় নিহত শ্রমিকদের সন্তানরা। শুক্রবার ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধ্বসের ২ বছরের মাথায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির আয়োজন করে জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন।
জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য কমরেড হাজেরা সুলতানা, সামরিক শাসন-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট বুর্যোর সদস্য নূর আহমেদ বকুল, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাফিয়া পারভীন, কেন্দ্রীয় নেতা কবির হোসেন, জেসমিন আক্তারসহ রানা প্লাজায় নিহতদের সন্তানরা।
নিহত শ্রমিকদের সন্তানরা এবং জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনাই যেন শেষ দুঘটনা হয়, ভবিষ্যতে আর এ ধরনের দুঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য বায়ার, মালিক, সরকার এবং বিজিএমইএসহ সবাইকে আরো তত্পর হওয়ার আহ্বান জানান। তারা দুঘটনায় নিহত, আহত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সবার পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ অবিলম্বে প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান। তারা বলেন—আইএলওর হিসাব অনুসারে ক্ষতিপূরণের জন্য প্রাথমিকভাবে যে ৪০ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন ছিল, এখন পর্যন্ত তাতে সাড়ে ৫ মিলিয়ন ঘাটতি রয়েছে। অবিলম্বে বায়ারদের সে ঘাটতি পূরণের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আহত সব শ্রমিকের প্রয়োজনীয় চিকিত্সা, পুনর্বাসন এবং নিহত শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়াসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তারা বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে ‘নিরাপদ কর্মস্থল’ এ পরিণত করার জন্য চলমান অ্যাকর্ড, এলায়েন্স, এনএপিসহ সব উদ্যোগকে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান। মাঝেমধ্যে বিজিএমইএ এবং সরকারের কোনো কোনো মহলের দায়িত্বহীন মন্তব্যের জন্যও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তা বন্ধ করার আহ্বান জানান। বক্তারা বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের স্বার্থেই এর শ্রমমান, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ এবং উন্নত মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সাথে বক্তারা এ সব উদ্যোগকে ফলপসূ করার জন্য বায়ারদের কে ন্যায্য বাণিজ্য এবং বাংলাদেশি গার্মেন্ট পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রদানের দাবি করেন।
