বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পিছিয়ে আসা প্রমাণ করে ইসি সরকারের ইচ্ছায় পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সেনা মোতায়েন নিয়ে ইসির সিদ্ধান্ত আমাদের হতাশ করেছে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে গণসংযোগকালে তিনি এ সব কথা বলেন। তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন স্থান হয়ে পুরানা পল্টন মোড়ে গণসংযোগ শেষ করেন মওদুদ আহমদ।
তিনি বলেন, যারা বেগম খালেদা জিয়ার ওপর হামলা করেছে তাদেরকে জনগণ আগামী ২৮ এপ্রিল তিন সিটি নির্বাচনে প্রত্যাখ্যান করবে। কোনোভাবেই জনগণ তাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে দেবে না। ভোটাররাসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা ২৮ এপ্রিল ভোট দিয়ে, ভোট গুণে ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরবে। সেই ফলাফল বর্তমান দুঃশাসনের সরকারের জন্য অসুখকর খবর বিধায় তারা নির্যাতন ও জুলুমের পথ বেছে নিয়েছে।
৯৯ ভাগ ভোট কেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শতকরা ৯৯ ভাগ ভোটকেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ মন্তব্য করে ‘ভোট ছিনতাই’ ঠেকাতে পাহারার ব্যবস্থা হবে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটাররা আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাহারা দেব। ভোট ছিনতাই করতে কেউ আসলে আমরা তা প্রতিহত করব। তিনি আরো বলেন, ক্যান্টনমেন্ট সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত নয়। নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে যদি দায়িত্ব পালন করতে হয় তাহলে তাদের ক্যান্টনমেন্টের বাইরে আনতে হবে। সেনাবাহিনীকে ক্যান্টনমেন্টে রাখার সিদ্ধান্ত নেহায়েত ইসির ভেলকিবাজি। রাজধানীর শাহজাহানপুরে মির্জা আব্বাসের বাসায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
হামলায় বিএনপির ভোট বেড়েছে তিন গুণ
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর যে পরিমাণ ভোট ছিল, খালেদা জিয়ার ওপর হামলার ঘটনায় তা তিনগুণ বেড়েছে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া তিনদিন নির্বাচনী প্রচার কাজে বের হয়েছেন। ওই তিনদিনই তার ওপর হামলা করে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকার দলের সমর্থকরা উন্মাদ হয়ে গেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে যদি আপনি সরকারের মতামতের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারেন তাহলে দয়া করে পদত্যাগ করুন। ইতিহাসে আপনার নাম লেখা থাকবে।
