বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসের আলোচনায় বক্তারা

‘ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে’

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৫, ১৯:১৪
 
 
 
 
এ বছরের মধ্যেই ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার শতকরা ৬০ ভাগ কমিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে ২০২০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যে ম্যালেরিয়াজনিত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। এ লক্ষ্য পূরণ করতে হলে সাবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস-২০১৫’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ সব কথা বলেন। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয় ম্যালেরিয়া দিবস। এ উপলক্ষে জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ব্র্যাকসহ অন্যান্য সহযোগী সংস্থা যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। 
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোলের লাইন ডিরেক্টর ও রোগ নিয়ন্ত্রণের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামছুজ্জামান।
তিনি বলেন—আমাদের লক্ষ্য-২০১৫ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার শতকরা ৬০ ভাগ কমিয়ে আনা। একই সঙ্গে ২০২০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যে ম্যালেরিয়াজনিত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। এ লক্ষ্য পূরণ করতে হলে সাবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ফান্ড সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন—ফান্ড সংকটে ধুঁকছে জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি। ২০০৮ সাল থেকে এ খাতে গ্লোবাল ফান্ডের অর্থ বরাদ্ধ ক্রমেই কমে আসছে। তাই দ্রুত এই খাতে অর্থ বরাদ্দ না বাড়ালে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের জন্য যে সব কার্যক্রম নেয়া হয়েছে, তা অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। 
অন্যান্য আলোচকরা ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ও নির্মূলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা, রোগীকে শনাক্ত করে দ্রুত চিকিত্সাির ব্যবস্থা করা, ম্যালেরিয়াপ্রবণ ১৩টি জেলার মধ্যে পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় বেশি কাজ করা, গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়ন বাড়ানো, কীটনাশকযুক্ত মশারির ব্যবহার বৃদ্ধি, গণমাধ্যমকে অধিকমাত্রায় সম্পৃক্তকরণ এবং অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম বাড়ানোর সুপারিশ তুলে ধরেন।
প্রতিবছর ২৫ এপ্রিল ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে এ রকম সভার আয়োজন করা হয়। দিবসের অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা, বিশেষ টক শো ও লোক সংগীত । এবারের ম্যালেরিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘ভবিষ্যতে বিনিয়োগ, কমাবে ম্যালেরিয়া।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সীমান্তিক, ঢাকা বাংলাদেশের পরিচালক ডা. মিজানুর রহমান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমএনপিডি, সিডিসি), এ এস এম আবু সাত্তার মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নিপসমের পরিচালক প্রফেসর আখতারুন নাহার, ব্র্যাকের টিবি-ম্যালেরিয়া, ওয়াশ অ্যান্ড ডিইসিসি কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলাম, ব্র্যাকের ম্যালেরিয়া কর্মসূচির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মোকতাদির কবির।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মোহাম্মদ জহিরুল কবির। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. কমর রেজওয়ান।