সোনার ছেলেরা একদিন বিশ্বকাপ জয় করবে

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৫, ২৩:২৫

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, তোমরা আমাদের সোনার ছেলে, তোমাদের জন্য আমরা গর্বিত। তিনি বলেন, সামনে আরো অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। তোমরা এগিয়ে যাও, গোটা দেশের মানুষ তোমাদের সাথে আছে। সেদিন বেশি দূরে নয়, একদিন আমরাও বিশ্বকাপ জিতবো ইনশাল্লাহ।

 
গতকাল শনিবার গণভবনে ক্রিকেটারদের সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটাই ক্রিকেটের এই সীমিত ওভারের খেলায় বাংলাদেশের প্রথম জয়। এর আগে ওয়ান ডে সিরিজের তিন ম্যাচেও দাপটের সঙ্গে চমত্কার ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে। প্রধানমন্ত্রী টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার হাতে টি-টোয়েন্টির ট্রফি তুলে দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে গণভবনে দাওয়াত দিয়েছিলেন।
 
দুপুর ১টার দিকে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনা মঞ্চে ওঠেন। এছাড়া মঞ্চে ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি ও নাঈমুর রহমান দুর্জয় এমপি। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মাশরাফির হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে দেশবাসীর পক্ষ থেকে ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এ সময় মাশরাফিও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ক্রিকেটপ্রেমী প্রধানমন্ত্রীকে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যে খেলা দেখিয়েছে তাতে গোটা বিশ্ব অবাক হয়ে গেছে। আমাদের টাইগাররা এবার সত্যিকারে এক একটা টাইগারের মতো খেলেছে। প্রত্যেকে আন্তরিকতা নিয়ে খেলেছে। তিনি বলেন, খেলার সময় সবার মধ্যে জেতার আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। এবার আমি সবার মধ্যে তা দেখেছি। পাকিস্তানের সঙ্গে বাকি টেস্ট সিরিজও জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়ান ডে ও টি-টোয়েন্টিতে জিতেছি। আগামী টেস্ট সিরিজেও জয়লাভ করবো। সামনে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ভাল দলগুলোর সঙ্গে খেলতে হবে। আমাদের এখন থেকে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। এসব খেলায় আমাদের জিততেই হবে।
 
খেলাধুলার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা যাতে স্কুল থেকে খেলাধুলায় আগ্রহী হয় আমরা সে ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছি। এছাড়া সাত বিভাগে আন্তর্জাতিক মানের একটি করে স্টেডিয়াম করে দেয়া হবে।   নির্মাণাধীন পদ্মা ব্রিজের ওপারে নদীর পাশে একটি স্টেডিয়াম তৈরির পাশাপাশি সেখানে ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ এবং কক্সবাজারে আরেকটি বড় স্টেডিয়াম গড়ে তোলা হবে।
 
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বকাপে উইনিং বোনাস হিসেবে ১ কোটি এবং আইসিসি থেকে আরো ৩ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। বিসিবির পক্ষ থেকে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা দেয়া হবে। আর বিশ্বকাপে ভাল খেলার জন্য ১ কোটি টাকা এবং পাকিস্তানকে ওয়ান ডে-তে ‘বাংলাওয়াশ’ করা এবং টি-টোয়েন্টিতে হারানোর জন্য আরো ১ কোটি টাকা দেয়ার  ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। বেক্সিমকোর পক্ষ থেকেও দেয়া হবে আরো ১ কোটি টাকা। তিনি বলেন, জাতীয় দলের যেসব ক্রিকেটার আগে গাড়ি পাননি তাদের জন্য গাড়ি দেয়া হবে। প্রত্যেক খেলোয়াড় যেন কমপক্ষে দুইটি করে ফ্ল্যাট পান সে ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ক্রিড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত সবার জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনেরও ঘোষণা দেন।
 
অনুষ্ঠানে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, আমরা এখন যে খেলা খেলছি তাতে পৃথিবীর কোন দলই সহজে জিততে পারবে না। এটা আমাদের শুরু। আমাদের আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আগামী বিশ্বকাপের আগে আমাদের আইসিসি র্যাংকিংয়ে আরো উপরে উঠতে হবে।
 
মাশরাফি বিন মর্তুজা আরো ভাল খেলা উপহার দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শত ব্যস্ততার মধ্যেও সব সময় ভাল খেলার জন্য আমাদের অনুপ্রেরণা, এমনকি মাঠে উপস্থিত থেকে আমাদের উত্সাহ যুগিয়েছেন। এজন্য তার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।
 
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী ঘুরে ঘুরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। মায়ের মমতায় কাছে টেনে নিয়ে সবার মুখে কেক তুলে দেন। পরে উপস্থিত ক্রিকেটার ছাড়াও কোচিং স্টাফ, নির্বাচকমণ্ডলী এবং বিসিবি কর্মকর্তাদের মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী।