আফ্রিদির আউট

বিতর্কে জড়াতে চাচ্ছেন না মাশরাফি

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৫, ১৬:২৮
 
আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে নিজের আউট হওয়া বিষয়ে শহীদ আফ্রিদির মন্তব্যের সঙ্গে নিজেদের জড়াতে নারাজ মাশরাফি বিন মর্তুজা। বরং এটাকে খেলার অংশ বলে মেনে নিচ্ছেন তিনি। এই বিষয়ে কেবল আইসিসিই সিদ্ধান্ত নিতে পারে, মাশরাফি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সে কথাও।
 
মাশরাফি জানান, আফ্রিদিকে উইকেটের সাথে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ না দিতেই মুস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনেন তিনি। সেই পরিকল্পনা শতভাগ কাজে লাগায় দারুণ খুশি বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আফ্রিদি যদি উইকেটে দশ ওভার থাকেন তাহলে পুরো ম্যাচের গতিপথ পাল্টে যেতে পারে। বহুদিন ধরে এমনই অবস্থা দেখছি আমরা। কিন্তু এটাও মানতে হবে একজন অভিষিক্ত হিসাবে দুর্দান্ত বোলিং করছিল মুস্তাফিজুর। আমরা নবাগত এই বোলারকেই আফ্রিদির বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেই। এই পরিকল্পনা পুরোপুরিই কাজে লেগে গিয়েছিল।’
 
আফ্রিদি অনভিজ্ঞ এই বোলারের উপর চড়াও হতে চাবেন অনুমান করেই এই সিদ্ধান্ত নেন জানিয়ে সতীর্থদের প্রিয় ‘ম্যাশ’ আরো বলেন, ‘আমরা জানতাম সে (আফ্রিদি) চাইবে তার উপর চড়াও হতে। কিন্তু মুস্তাফিজুর দারুণ একটা বল করলো। আফ্রিদিকে এত তাড়াতাড়ি ফেরাতে পারাটা ছিল সৌভাগ্যের।’
 
আম্পায়ারিং বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে মুখ না খুলতে আফ্রিদিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন মাশরাফি। বরং এগোতে বলেছেন নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, ‘যদি সে বলে থাকে এটা আউট নয় তাহলে আমার মনে হয় আমাদের এই বিষয়ে আরো কিছু বলার আছে। আমি বলবো, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই মেনে নেয়া উচিত। আমি নিজে সবসময়ই তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারণ তারাও মানুষ এবং মানুষের ভুল হবেই। কিছু কিছু বিষয় গণমাধ্যমের সামনে (অফ দ্য রেকর্ড) উচ্চারণ না করাই ভালো। সে যদি অভিযোগ করে তাহলে আইসিসি এ বিষয়ে তদন্ত করবে। আমাদের কিছু বলার নেই।’
 
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে, আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে মাত্র ১২ রানে নিজে ফিরে না গেলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গত শুক্রবারের টি-টোয়েন্টির ফল অন্যরকম হতে পারতো বলে মন্তব্য করেন আফ্রিদি। যদিও সাত উইকেটের হারের পেছনে এই ঘটনাকে অজুহাত হিসাবে দাঁড় করাতে চাননি পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। ইনিংসের শুরুতেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশের বোলাররা বিশেষত মুস্তাফিজুর রহমান তাদের চাপে ফেলে দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন আফ্রিদি।
 
উইকেটে এসেই মুস্তাফিজকে ছয় হাকিয়ে স্বভাবসুলভ ঝড় তোলার ইঙ্গিত দেয়া আফ্রিদিকে থেমে যেতে হয় খানিক বাদেই। মুস্তাফিজের একটি আউট সুইং বুঝতে না পারায়, বল চলে যায় তার ব্যাট ঘেঁষে। বোলার-উইকেটরক্ষকের আবেদনে আঙ্গুল তোলেন আম্পায়ার। এই ম্যাচে রেফারেল পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় আফ্রিদিকে ফিরে যেতে হয় সাথে সাথেই। পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বলের সঙ্গে তার ব্যাট কিংবা গ্লোভসের সংযোগ ঘটেনি।
 
পরে মারমুখী এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে ওটা আউট ছিল না। আমরা মানুষ সুতরাং ভুল হতেই পারে। তবে এখন ক্রিকেটটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, একটা বাজে সিদ্ধান্তেই ম্যাচ ঘুরে যেতে পারে। পুরো গল্পটাই হতে পারে অন্যরকম। তবে সেখানে আইসিসির দৃষ্টি ছিল। তারা আম্পায়ারিংয়ের বিষয়গুলো তদারক করছে এবং মূল্যায়নও করা হয় নিয়মিতই। শুধু ঐ একটি নয় আরো বেশ দুই-তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ম্যাচ রেফারি এই বিষয়গুলো লক্ষ্য করে থাকবেন।’
 
বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে যে চাপ সৃষ্টি করেন, সেটাই পাকিস্তানকে চূড়ান্ত বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি, ‘আমাদের শুরুটা ভাল হয়নি। তাদের (বাংলাদেশের) বোলাররা খুবই ভাল বল করছিল। বিশেষ করে নতুন বলে যে ইনিংস শুরু করে (মুস্তাফিজ)। বৈচিত্র্য এবং উইকেটের সুবিধাকে দারুণভাবে কাজে লাগায় সে।’ —ক্রিকইনফো অবলম্বনে