সবার উৎসব সবাই মিলে

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৫, ০১:৪৫
যৌন হয়রানি দেশে এখন উত্সবে পরিণত হয়েছে। যার জন্য কোন জায়গা নিরাপদ বোধ করছেন না নারী। চলছে আন্দোলন, চলছে মিছিল, প্রতিবাদ। তাতে কি সমাধান হবে? আবার হয়রানির ঘটনার পর মেয়েদের বলা হয়, আর যেওনা উত্সবে। তবে ছেলেদের এমনটা বলে না পরিবার। জানাচ্ছেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক
 
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা উচিত
শাহ্নীরা আলম স্বজনী
স্টামর্ফোড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
শুধু রাস্তাঘাটে নয়, বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে থাকে, যা নিয়ে বেশিরভাগ নারীই নীরব থাকে। গার্মেন্টস, কর্পোরেট সেক্টর, এনজিও, সরকারি অফিস প্রায় সবখানেই ক্ষমতার অপব্যবহার হয়, চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে, মিথ্যা প্রলোভনের মাধ্যমে যৌন হয়রানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু এসব নিয়ে যৌন হয়রানির শিকার নারী দুর্নামের ভয়ে সচরাচর মুখ খোলে না। আর এ ব্যাপারে সরকার, গার্মেন্টস মালিক বা কর্পোরেট মালিকেরা কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দিয়েছেন কি? অথচ  প্রতিটা  প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি রোধে নিজস্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা উচিত।
 
যৌন হয়রানি এখন মামুলী ব্যাপার
শায়রা আলম
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি
যে কোন কারণেই হোক না কেন আমাদের দেশে নারীর যৌন হয়রানির ঘটনা অহরহ ঘটেই চলেছে। এটা এক ধরনের মামুলী ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবাই জানে, দেখে, বোঝে। কিন্তু কেউই মুখ ফুটে সামান্য প্রতিবাদ তো দূরের কথা সহানুভূতি বা সাহস দেয়ার ভাষাও খুঁজে পায় না। হয়রানির শিকার নারীর পক্ষে বা পাশে দাঁড়ানো দূরে থাক হয়রানিকারককে ধমকও দিতে চায় না বা হয়রানির সময় সেটি প্রতিহত করারও চেষ্টা করে না। কারণ বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে, হয়রানিকারকের নয় যে হয়রানির শিকার— লজ্জা যেন তারই। অথচ বিষয়টি এমন হওয়া উচিত   ছিল, যে নারীকে হয়রানি করছে তারই হয় আত্মহনন করা উচিত ছিল বা সরাসরি সরকার থেকে ভিকটিমের সকল প্রকার গোপনীয়তা বজায় রেখে হয়রানিকারকের সর্বোচ্চ সাজা অতি দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা।
 
সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে
তানভীর ইসলাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
যৌন হয়রানির মতো ঘটনায় কোন্ সমাজের ভয়ে মানুষ চুপ করে থাকে। যে সমাজ নারীর সম্মানহানি করেছে সেই সমাজকে ভয় পাওয়ার কোন মানে হয় না। নিজের চোখ দিয়ে সমাজকে দেখতে হবে। সমাজের কিছু নারীকে ‘একঘরে’ করে রাখতে চাইছে আর  কিছু নারী তাতে সায় দিচ্ছেন! তার কারণ হচ্ছে সে নির্বিকার। তার কিছু করার নেই। সমাজের যাঁতাকলে সেই নারী পিষ্ট। কিন্তু আমাদেরকে লেগে পড়তে হবে অপরাধীর শাস্তির জন্য। পরিবারকে আপনার সঙ্গে নিতে হবে। আশপাশের মানুষকে জানাতে হবে তাদেরও সচেতন করতে হবে এসব বিষয়ে। সবাই একত্রে নেমে পড়তে হবে রাস্তায়। হয়তো বাধা আসবে, তবে আপনার পাশে দাঁড়ানোর জন্যও মানুষের কমতি হবে না, এই বিশ্বাস রাখুন।
 
শহরে যৌন নির্যাতনের ঘটনা বেশি
মারুফ আহাম্মেদ পবিত্র
নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি
গ্রামের চেয়ে শহরে যৌন নির্যাতনের ঘটনা বেশি ঘটে। আইন করে এ নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। অধিকাংশ পরিবারে বাবা-মা যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনার জন্য তাদের মেয়েকে দায়ী করেন। অনেক সময় মেয়েকে যৌন নির্যাতন করা হলেও বাবা-মা ভয়ে প্রতিবাদ করেন না। কারণ বেশিরভাগ নির্যাতনকারীই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকে। বর্তমানে বেশিরভাগ অপরাধীই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিচ্ছে। এ কারণেই অপরাধ দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। চুপ করে সহ্য করা; ভয় পাওয়া; নিজের মেয়েকে দোষ দেয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নির্যাতনকারী ও বখাটেদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। তবে যৌন হয়রানি বন্ধে সরকারকেই বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। কঠোর আইনের মাধ্যমে যৌন হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি  নিশ্চিত করতে হবে।
 
এটা জাতির সীমিত সংখ্যকের বেড়ে ওঠার সমস্যা
গাজী পূর্নী
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
যৌন হয়রানি যদি সার্বজনীন কোন সমস্যা হয়ে থাকে, যে কোন মানুষের চেতনায় আঘাত লাগার মতো বিষয় হয়ে থাকে, তাহলে বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় কেন প্রতিবাদস্বরূপ মানববন্ধনে পুরুষরা দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও শুধু নারীদের ছবি সম্বলিত সংবাদ ছাপা হয়, তাদেরই মন্তব্য দেয়া হয়? গণমাধ্যমে এ ধরনের উপস্থাপনও এ ধরনের ঘটনাকে চটুল করে তোলে। আবার এ বিষয়ে নারীদের এগিয়ে আসতে দেখে অনেকে আনন্দও পেতে চান। বলেন, তোমাদের সমস্যা নিয়ে তোমরাই চেঁচামেচি করো। যেমনটা নাকি সমঅধিকারের প্রশ্নে নারীরা করে। এটা শুধু নারীর সমস্যা না, এটা একটা জাতির সীমিত সংখ্যকের বেড়ে ওঠার সমস্যা, চিন্তা চেতনার ও বিবেকের সমস্যা। আমার মানসিক গঠন কেমন, আমি সঠিক কিনা আমি তা খুঁজে দেখার চেষ্টা করি না। কী করছি, কী দেখছি, কী শুনছি, কী শিখছি এগুলো নিয়ে ভাবার সময় আমাদের নেই। বিষয়টা এমন, আমি আমার মতোই চলছি, আপনি চলুন আপনার মতো। আমার কোন কাজে কারো সম্মানে আঘাত লাগবে না, তা নিয়ে আমাদের কোন ভাবনা নেই।