নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় নার্গিস আক্তার (১৯) নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ মঙ্গলবার সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই নববধূর স্বামী হাবিবুর রহমান হবি (২৭), শ্বশুর আব্দুস সাত্তার (৭০) ও শ্বাশুড়ি নূরবানু (৬০) নামে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের রায়পুর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে নার্গিস আক্তারের পিতা আবুল কালাম বাদী হয়ে মেয়ের জামাই, জামাইয়ের বড় ভাই ও শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে আসামি করে কেন্দুয়া থানায় তার মেয়েকে হত্যার লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের রায়পুর মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে হাবিবুর রহমান হবির সঙ্গে একই গ্রামের পূর্বপাড়ার আবুল কালামের মেয়ে নার্গিস আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। স্বামী হাবিবুর রহমান হবি তার স্ত্রী নার্গিস আক্তারকে প্রায় সময়ই কালো ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বলে গালিগালাজ করত এবং সে তার স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কও বজায় রাখত না। গত সোমবার দিবাগত রাতে একই বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন তারা স্বামী-স্ত্রী দুজন। কিন্তু রাত শেষের দিকে হঠাৎ হাবিবুর রহমান হবির ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখেন, তার স্ত্রী নার্গিস ঘরে নেই। পরে পরিবারের সবাই তাকে খুঁজতে শুরু করলে বাড়ির পাশে একটি মজা পুকুরে নার্গিসের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে।
এ ঘটনার খবর পেয়ে নেত্রকোনা জেলার সহকারি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুজিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সহকারি পুলিশ সুপার মুজিবুর রহমান জানান, লাশের গলার বামপাশে হালকা আঁচড়ের দাগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে হয়ত তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে না।
কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অভিরঞ্জন দেব জানান, হত্যার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মৃত্যুর কারণ জানতে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলেও ওসি জানান।
