সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়ছেই। মার্চ মাসে আগের সব রেকর্ড ভেঙ্গে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। ফলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে বিপুল অর্থ। সম্প্রতি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত আসলেও মার্চে বিক্রির নতুন রেকর্ড হয়েছে।
জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে ২১ হাজার ১৮৪ কোটি ৮ লাখ টাকা, যা পুরো অর্থ বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার ১২৮ কোটি ৮ লাখ টাকা বেশি। এ বছর নিট বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা।
চলিত অর্থ বছরের প্রথম নয় মাসে ডাকঘরের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বেশি বিক্রি হয়েছে। এ সময়ে ডাকঘরের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ৯ হাজার ৫৬০ কোটি ৬২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। সঞ্চয়পত্র ব্যুরোর মাধ্যমে নয় মাসে মোট বিনিয়োগ হয়েছে ৩ হাজার ৯৫০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূল্য পরিশোধ বাবদ ৯ হাজার ৬৮০ কোটি ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আর সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৭ হাজার ৫১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
সঞ্চয়পত্র বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একক মাস হিসাবে মার্চে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ এসেছে ২ হাজার ৯০০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে বিনিয়োগ এসেছে ২ হাজার ৫৪৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর আগের মাস জানুয়ারিতে বিনিয়োগ আসে ২ হাজার ৬০৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর আগের মাস ডিসেম্বরে বিনিয়োগ আসে ১ হাজার ৮৯৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। নভেম্বরে নিট বিনিয়োগ এসেছে ১ হাজার ৪৬৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অক্টোবরে এসেছে ২ হাজার ২৫৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বরে আসে দুই হাজার ৪৯২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আগস্ট মাসেও এক লাফে নিট বিক্রির পরিমাণ গিয়ে উঠে দুই হাজার ৪৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। চলতি অর্থ বছরের (২০১৪-১৫) প্রথম মাস জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি আসে এক হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা।
জানা গেছে, সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়াতে গত বছরের মার্চ মাস থেকে সুদের হার কিছুটা বাড়িয়েছে সরকার। পরিবার, পেনশনার, তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, ডাকঘর ও পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১ শতাংশ থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তাছাড়া পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করমুক্ত রেখেছে সরকার।
বর্তমানে ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সুদহার ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ বিদ্যমান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ১১ জুন থেকে কোন প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলের টাকা ৫ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সযোগ ছিল; কিন্তু কর কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল ছাড়া গ্রাচুইটি ফান্ডের অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুযোগ ছিল না।
