নেপালে ভূমিকম্পে ৮০ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ, যা দেটির মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশেরও বেশি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিদেশি সাহায্য পৌঁছানো শুরু হলেও তা পর্যাপ্ত নয়।
দেশটিতে খাদ্য, পানি ও জরুরি ঔষধের ঘাটতি রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এছাড়াও রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছে জাতিসংঘ।
গত শনিবার ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ পুরো নেপালজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে তা নেপাল ছাড়াও বাংলাদেশ ও ভারতের কয়েকটি রাজ্যে তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
নেপাল ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ভূমিকম্পের পর তিন দিন পর্যন্ত পরাঘাত অব্যাহত থাকে। কাঠমান্ডুতে হাজার হাজার লোক তাদের বাড়ির বাইরে তৃতীয় দিনের মতো খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। ফের ভূমিকম্প হতে পারে আশংকায় তারা বাড়ির ভেতরে যেতে ভয় পাচ্ছেন।
জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে ৩৯ জেলায় মোট ৮০ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১১ জেলার ২০ লাখ লোক।
ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের কাছাকাছি প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলের পরিস্থিতি খুবই গুরুতর।
কেন্দ্রস্থলের নিকটবর্তী গোরখা জেলার কর্মকর্তা সূর্য মোহন বলেন, গ্রামীণ এলাকাগুলোতে ৯০ শতাংশ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকে তাদের বাড়িঘর ও গবাদিপশু হারিয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় তাদের খাদ্য সংগ্রহের কোন উপায় নেই।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূমিধসের কারণে পার্বত্য এলাকার রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া প্রচণ্ড বাতাস ও বৃষ্টির কারণে হেলিকপ্টারও অবতরণ করতে পারছে না। সূত্র: এএফপি
