পুরান ঢাকায় সংঘর্ষে কাউন্সিলর প্রার্থীসহ আহত ১৫

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৫, ২০:০১
সংঘর্ষ ও গোলাগুলির মধ্যে পুরান ঢাকার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের ঘটনা ঘটেছে। এসময় একাধিক ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিতও করা হয়েছে। সংঘর্ষে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীসহ অন্তত ১৫জন আহত হয়েছে।
 
এছাড়াও বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে সাংবদিকদের প্রবেশ এবং ফটোসাংবাদিকদের ছবি তুলতেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ত
 
বে ভোট দেওয়ার আগেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট কাস্ট করার অভিযোগ করেছেন ভোট দিতে আসা ভোটাররা। ভোট কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে ভোট পর্যবেক্ষণে থাকা সুইডিশ দূতাবাসের দুই কূটনীতিক কবি নজরুল সরকারি কলেজে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
 
জানা গেছে, ভোট শুরুর আগে সকাল পৌনে আটটার দিকে পুরান লক্ষ্মীবাজার এলাকায় সেন্ট্রাল গার্লস স্কুল কেন্দ্রে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মন্টি ও সাজ্জাদ নামে দুই পোলিং এজেন্ট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ইয়ার মোহাম্মদ ইয়ারুর সমর্থকরা তাদের গণধোলাই দিয়ে সুত্রাপুর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
 
এরপরে একই এলাকার সেন্ট গ্রেগোরি স্কুল কেন্দ্রে ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে চাইলে তাতে বাধা দেয় পুলিশ।
 
ভোট গ্রহণ শুরুর আধা ঘন্টা পরেই শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান হিমু ও কাউসার আহমেদের নেতৃত্বে জাল ভোট প্রদানের অভিযোগ পাওয়া যায়।
 
সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাংলাবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ত্রিশ/চল্লিশজনের একটি দল কেন্দ্রে ঢুকে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর ব্যালটে গণহারে সিল মারতে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন ভোট কেন্দ্রের লাইনে দাড়িয়ে থাকা কমলা রানী দেবী নামে এক নারী ভোটার।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল নয়টার দিকে পোগজ স্কুল কেন্দ্রে জবি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা প্রবেশ করে আগের কাস্ট হওয়া সব ব্যালট ছিড়ে জানালা দিয়ে ফেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
 
পরে তারা সাঈদ খোকন এবং আওয়ামীলীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুর রহমান মিয়াজীর পক্ষে ব্যালটে সিল মারলে স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী শাহাবুদ্দিন জনি সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে।
 
এসময় সেখানে প্রায় আড়াই ঘন্টা ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকে। পরে ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
 
এদিকে সুরিটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যালট বক্স ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ভোট দিতে না পারায় ভোটাররা সেখানে বিক্ষোভ করেন। ঐ কেন্দ্রের ভোটারেরা ভোট দিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
 
তারা অভিযোগ করেন, ভোট শুরুর পরে ২০/৩০ জন ভোট দিলে আমাদের জানানো হয় যে- ভোট শেষ। তাহলে আমাদের ভোট দিল কে? কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভরত কয়েকজন মহিলা বলেন, আমরা ভোট দিতে চাই। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এ ঘটনায় সেখানে প্রায় সোয়া ঘন্টা ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকে।
 
পরবর্তীতে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
 
এসময় পুলিশ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। সেগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে। ভোটাররা তাদের ভোট যাকে খুশি দিবে। আমাদের দায়িত্ব শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা। আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছি এতে ভোটাররা শান্তিতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে।
 
ভোট গ্রহণ স্থগিতের বিষয়টি স্বীকার করে সুরিটোলার ৩নং কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার লুত্ফর রহমান বলেন, একটু ঝামেলার কারণে আমাদের এখানে ভোট গ্রহণ স্থগিত ছিল। কিছুক্ষণ পরই আবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
 
জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে কবি নজরুল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে প্রশাসনিক ভবনের উত্তর পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলায় কেন্দ্রের দরজা বন্ধ করে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর ব্যালটে গণহারে সিল মারতে থাকে শাখা ছাত্রীগের নেতা-কর্মীরা। পরে স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ সেলিম কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনেন সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা নুরুল আমীনের কাছে। এর যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে ভোট বর্জন করেন তিনি।
 
পবরর্তীতে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মামুনুর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান সোহেলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হাজী মোহাম্মদ সেলিম এবং তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালালে উভয় পক্ষের নেতা কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এসময় হাজী মোহাম্মদ সেলিমসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়।
 
পরে তাদেরকে কেন্দ্রের কলাপসিবল গেট লাগিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং সেখানকার ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরে হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দারা কবি নজরুল কলেজ গেটে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
 
এ ঘটনায় ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষণে আসা সুইডিশ দূতাবাসের দুই কূটনীতিক ভিতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে পুলিশ আহতবস্থায় হাজী মোহাম্মদ সেলিম ও তার সমর্থকদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।
 
এরপরই আবার ছাত্রলীগ ও সেলিম সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় ইট, ঢিল মারতে থাকে। আর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও অস্ত্র, রড, হকি স্টিক ও লাঠিসোটা বের করে। এতে অন্তত দশজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।