ইত্তেফাক রিপোর্ট
চলতি বাজেটের তুলনায় আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার প্রায় ১৮ শতাংশ বাড়িয়ে দুই লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে দুই লাখ ৮ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ধরা হচ্ছে ৮৬ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে বিদেশ থেকে ৩৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ারো লক্ষ্য থাকছে। বাকি ৫১ হাজার ৭৩০ কোটি টাকার জন্য নির্ভর করতে হবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেয়া ঋণের ওপর।
সর্বশেষ আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে এ প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত হবার আগে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।
অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এটি কমিয়ে সংশোধিত বাজেটে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ, অর্জিত হয়েছিলো ৬ দশমিক ১২ শতাংশ। আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন নীতি নির্ধারকরা।
চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার দুই লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার। যার মধ্যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৮২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর সামগ্রিক বাজেট ঘাটতির প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা।
বাজেটের আকারের সঙ্গে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বরাদ্দের পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) তে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৯২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাজেটের বাকি দুই লাখ আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে সরকারি চাকুরেদের বেতন-ভাতা, দেশ-বিদেশ থেকে সরকারের নেয়া ঋণের সুদ পরিশোধ ও অনুন্নয়নমূলক কাজে।
নতুন অর্থবছরে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণসহ বড় অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দিয়ে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। প্রতিবছরের মতো এবছরও তা সংশোধন করে কমিয়ে ৭৫ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি অর্থবছরের বড় অংশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও টানা কয়েক মান আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাস সার্বিক দিক থেকে স্বস্তি দিয়েছে। অন্যদিকে আগামী অর্থবছরেও তেলের দামে খুব একটা হেরফের হবে না বলে মনে করছে অর্থমন্ত্রণালয়। এ প্রেক্ষিতে নতুন অর্থবছরে সার্বিক ভর্তুকির অংকটা বেশ ছোট হতে পারে। নতুন অর্থবছরে ভর্তুকিতে বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের তুলনায় ছয় হাজার কোটি টাকা কম হতে পারে। চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি বাবদ যেখানে বরাদ্দ ছিল ৩০ হাজার কোটি টাকা সেটি আগামী বাজেটে কমিয়ে ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা করা হচ্ছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৮০০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি তার লক্ষ্যমাত্রায় রয়েছে। খাদ্য দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল থাকাসহ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানীর দাম স্থিতিশীল থাকলে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার ৬ দশমিক ২ শতাংশে বেঁধে রাখার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
