অনিয়মের কোন অভিযোগ পাইনি :সিইসি

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৫, ১৪:৪৫

অবাধ, সুষ্ঠু ও উত্সবমুখর পরিবেশে তিন সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। তিনি বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা, এজেন্ট ও সাধারণ ভোটাররা কোন অভিযোগ করেননি। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে প্রতি কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।

 
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মিডিয়া সেন্টারে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন সিইসি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল দাবি করে তিনি বলেন, তড়িত্ হস্তক্ষেপের কারণে বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। কেউ অভিযোগের কথা জানাননি। কেউ ভয়ভীতির সম্মুখীন হননি বলেই জানাননি। কয়েকটি দেশের কূটনীতিক পর্যবেক্ষণ করে তাদের মতামত গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেছেন। তারাও এ নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলেছেন।
 
তবে সিইসি বলেন, কতিপয় কেন্দ্রের অনভিপ্রেত খবর আমাদের কাছে এসেছে। আমরা তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে তিনটি কেন্দ্রে পরিস্থিতি প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়। এগুলো হলো: ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের আশরাফ মাস্টার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুরিটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
নির্বাচন পরবর্তী আইন-শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আরও একদিন মোতায়েন থাকবে। তাদের সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিচ্ছি। সকল প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অনিয়মের অভিযোগে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের নির্বাচন বর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটি রাজনৈতিক দলভিত্তিক নির্বাচন নয়। প্রার্থীভিত্তিক নির্বাচন। আমাদের কাছে এ পর্যন্ত কেউ বর্জন করার বা অভিযোগের দরখাস্ত করেননি।
 
পুলিশ বাহিনী সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে- এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিইসি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তাত্ক্ষণিকভাবে সমস্ত কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি। তাদের পর্যবেক্ষণ নীতিমালা পড়িয়ে শুনিয়েছি। আপনারা কেন্দে র নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দেন। আমরা ব্যবস্থা নেব।
 
সেনাবাহিনী ডাকার মত পরিস্থিতি ছিল কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, কেন্দ্র বন্ধ করা আর সেনাবাহিনীকে তলব করার মধ্যে পার্থক্য আছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীই যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাহলে সেনা তলব করার প্রয়োজন হয় না। নির্বাচন নিয়ে কতটুকু সুখী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণনা চলছে। ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোটাররা যে ঠিকমতো বাড়ি ফিরে গেছেন এটাই স্বস্তি।
 
‘আপনারা দেখান’:গতকাল বেলা ১১টার দিকে হঠাত্ ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে বের হন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তিনি ধানমন্ডির কাকলী উচ্চ বিদ্যালয় ও রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল-কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এ সময় গণমাধ্যম কর্মীরা ভোটে অনিয়ম নিয়ে নানা প্রশ্ন করলেও সিইসি কোনো জবাব দেননি। এক পর্যায়ে তিনি ‘আপনারা দেখান’ বলে গাড়িতে উঠে পড়েন। এসময় সিইসির গাড়িবহরে থাকা পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে মৃদু ধাক্কাধাক্কি হয়।
 

এর আগে সকালে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ১৫টির মতো ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হয়েছে।