সহিংসতা ও অনিয়ম দক্ষিণ সিটিতেই বেশি

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৫, ০১:২৩

ঢাকা উত্তরের তুলনায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী এলাকায় সহিংসতা ও অনিয়মের ঘটনা বেশি ঘটেছে। সরকার সমর্থকরাই নন, অনেক ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও এসব অনিয়মের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যোগ দেন বলে অভিযোগ আছে। এসব ঘটনার তথ্য-চিত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে সরকার সমর্থকদের হামলার শিকার ও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কয়েকজন সাংবাদিকও।

 
কয়েকটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ, গোলাগুলি ও দু পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এতে শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। হামলা-ভাংচুরের কারণে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়। কোনো কোনো কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে দলের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম। এ সময় তার নিরাপত্তারক্ষীর গুলিতে একজন আহত হন। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের কয়েকজন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার সমর্থকদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন। কয়েকজনকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে।
 
নারিন্দা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র
 
পুরান ঢাকার নারিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ওবায়দুল ইসলামকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাঈদ খোকনের ‘ইলিশ মাছ’ প্রতীকে সিল মারতে দেখা গেছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে ব্যালট পেপারে সিল মারতে দেখেন গণমাধ্যমকর্মীরা। ঢাকা দক্ষিণের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৪২ নম্বর ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে সকালে ভোটারদেরও ফিরিয়ে দিতে দেখা যায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের। ভোটাররা কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাদের বলেন, ‘ভেতরে সবাই নাস্তা খাচ্ছে, এখন ভেতরে যাবেন না, পরে আসেন।’
 
ভোটাররা চলে যাওয়ার পর গণমাধ্যমকর্মীরা ভেতরে গিয়ে দেখেন, ওই ভোটকেন্দ্রের দোতলায় দুটি ভোটকক্ষের মধ্যে একটি বন্ধ ছিল। এক নম্বর বুথে প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার, ‘ইলিশ মাছ’ প্রতীকের পোলিং এজেন্ট এবং দুজন কার্ডহীন ব্যক্তি মিলে ব্যালট পেপারে সিল মারছেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সবাই যার যার আসনে বসে পড়েন।
 
বাংলাবাজারে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে ভোট
 
বাংলাবাজার সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের মেয়র প্রার্থী ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের ব্যালট দিতে দেখা যায়। সেখানে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সবুজ ব্যালট পেপার ছিল না। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বরত সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার বলেন, ‘ঘুড়ি মার্কার সমর্থকরা এসে ব্যালট নিয়ে জোর করে ভোট দিয়ে চলে যায়। জানের ভয়ে কিছু বলিনি। এই কেন্দ্রের প্রতিটি বুথেই একই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।’
 
সিদ্ধেশ্বরী কলেজের প্রিসাইডিং অফিসার এ এফ এম সানাউল্লাহ বলেন, জোর করে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে আমরা ব্যালট সমন্বয় করছিলাম। কারণ কোনো একটি ব্যালট বেশি চলে গেলে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। এই ঘটনার সময় বুথে উপস্থিত থাকা একাধিক ভোটার জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সকাল পৌনে ৯টার দিকে কেন্দ্রে ঢুকে বুথ দখল করে ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে ঘুড়ি মার্কা আব্দুর রহমান নিয়াজীর পক্ষে সিল মারতে থাকে। এ সময় মহিলা বুথে ঢুকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরা ব্যালট পেপারে সিল মারার কাজ সারেন।
 
অসহায় কর্মকর্তা
 
বেলা পৌনে দুইটা। ঢাকা দক্ষিণের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্র। একটি কক্ষে দেখা গেল, প্রকাশ্যেই কয়েকজন ব্যালট পেপারে সিল মারছেন। কয়েকটি বুথে আবার ভোটগ্রহণ বন্ধ। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এজিএম সফিকুর রহমান অনেকটা অসহায়ভাবে বিভিন্ন নম্বরে ফোন করছেন। এ সময় মোবাইল ফোনে কোনো এক কর্মকর্তাকে তিনি বলছিলেন, ‘আমি ২৬৪ নম্বর কেন্দ্র থেকে বলছি। এই কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা চলছে। বাইরের লোকজন এসে ব্যালট পেপার নিয়ে যেতে চাচ্ছে। পুলিশ এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করলেও অ্যাকশন নিচ্ছে না। কিছু একটা করেন।’ তবে সফিকুর রহমান এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কিছু বলতে রাজি হননি।
 
সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়
 
ভোটের বান্ডেল নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এক কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রতীকে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের অপর এক কাউন্সিলর প্রার্থী ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পুনঃভোটের আবেদন জানান। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শেখ মো. আরিফুল ইসলামও অবৈধভাবে সিল মারার এই ঘটনার কথা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু ব্যালটে সিল মারা হয়েছে। আমি আমার ঊর্ধ্বতনদের বিষয়টি জানিয়েছি।’
 
এই কেন্দ্র থেকে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যাপক কারচুপি হচ্ছে।’
 
লক্ষ্মীবাজারে দুই কাউন্সিলরের
 
সমর্থকদের সংঘর্ষ
 
ঢাকা দক্ষিণের লক্ষ্মীবাজারে কাউন্সিলর পদের প্রার্থী দুই আওয়ামী লীগ নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বেলা ১২টার দিকে কবি নজরুল কলেজ কেন্দ্রের বাইরে প্রায় আধা ঘণ্টার সংঘর্ষের পর ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘ঘুড়ি’ প্রতীকের প্রার্থী ইয়ার মোহাম্মদ ইয়ার এবং ‘টিফিন ক্যারিয়ার’ প্রতীকের দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিমের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
 
সুরিটোলায় হামলা-ভাংচুর
 
বংশালের সুরিটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনটি কেন্দ্রের মধ্যে একটি কেন্দ্রে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনার পর ওই কেন্দ্রের ভোট কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখে নির্বাচন কমিশন। বেলা পৌনে ১২টার দিকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসেন কেন্দ্রের বাইরে ইসির এ নির্দেশনা জানিয়ে বলেন ‘এ স্কুলে তিনটি কেন্দ্র রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ৫৬৫ নম্বর কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হল।’
 
ভোট শুরুর ঘণ্টাখানেক পর দুই নম্বর কেন্দ্রে ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় একটি ভোটকক্ষে দুটি ব্যালট বাক্স ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রিজাইডিং অফিসার নিতেশ কুমার সাহা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাইরে থেকে লোক এসে হামলা চালিয়েছে।’ গোলযোগের পর কেন্দ্রের বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। খবর পেয়ে বিজিবির একটি গাড়িও সেখানে উপস্থিত হয়। এখানে ১টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করা হলেও পুলিশ অন্য কেন্দ্র দু’টিতে ভোটারদের প্রবেশ করতে দিচ্ছিল না। দু’ঘণ্টা পর ওই কেন্দ্রে পুনরায় ভোট শুরু হয়।
 
তিন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বিঘ্নিত
 
বিশৃঙ্খলার কারণে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের পাশে সিটি করপোরেশন স্টাফ কোয়ার্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এ স্কুলের ৭৩৫ নম্বর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আহমেদ জামিল বেলা পৌনে ১২টায় সাংবাদিকদের জানান, কিছুসংখ্যক লোক কেন্দ্রের বাইরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এক ধরনের হট্টগোলও করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভোটগ্রহণ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। এ স্কুলের ৭৩৭ নম্বর মহিলা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মুনীরুজ্জানা জোহা সাংবাদিকদের জানান, পাশের পুরুষ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশের কেন্দ্র স্থগিত থাকায় তার কেন্দ্রও সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া টিকাটুলির মিতালী স্কুল কেন্দ্রের সামনে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
 
হাজী সেলিম লাঞ্ছিত
 
৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সাহাবউদ্দিন জনির সমর্থকদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন দলটির নেতা ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম। এ সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর গুলিতে লিটন নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। দুপুর দেড়টার পর পুরনো ঢাকার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের বুলবুল ললিতকলা একাডেমি ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
 
সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ, কয়েকজনকে মারধর
 
বাসাবো উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অনলাইন নিউজপোর্টাল রাইজিংবিডি’র নিজস্ব প্রতিবেদক ইয়াসিন রাব্বী (২৩)। দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তার ডান পায়ে গুলি লেগেছে। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
 
এদিকে, পুরান ঢাকার নারিন্দার দক্ষিণ মৈশুন্ডি স্কুলের সামনে দায়িত্ব পালন করার সময় প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মোশতাক আহমেদের ডায়েরি ও টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। পৃথক ঘটনায় শাজাহানপুরের মাহবুব আলী ইনস্টিটিটে দুপুর দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে প্রকাশ্যে ভোটচুরির ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন প্রথম আলোর আরেক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সুজয় মহাজন।
 
সবুজবাগে শিশুসহ আহত ৬
 
সবুজবাগ এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর হাইস্কুল কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আরাফাত (৪) নামে এক শিশুসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। ?অন্যরা হলেন- মুকুল, সুমন, শফিকুল, সাইফুল ও সাব্বীর।
 
শিশু কল্যাণ প্রা: বি:
 
সকাল ১১টা। শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে যেতেই দেখা গেল, নেমপ্লেট বিহীন (নামের স্টিকার নেই) পুলিশের দুইজন এসআই আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর ও মেয়র পদপ্রার্থী ব্যতীত অন্য প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দিচ্ছেন। কেন্দ্রের ভেতরে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। এসআইয়ের ব্যাজ ধারণকারী ওই দুই পুলিশকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আর নেমপ্লেট না থাকার কারণ জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকদের গালিগালাজ করতে থাকেন। এদিকে নির্বাচন কমিশনের পাস ছাড়া মোটর সাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও সাঈদ খোকনের নির্বাচনী স্টিকার সংবলিত ৭টি মোটর সাইকেল যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন কেন্দ্রে শো-ডাউন দিতে দেখা গেছে।
 
৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন খান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই কেন্দ্রে যাত্রাবাড়ী থানার একজন কর্মকর্তা এজেন্টদের বের করে দেন। এরপরই আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সায়েম খন্দকারের কর্মীরা ভোটকেন্দ্র দখল করে সিল মারতে থাকে। যাত্রাবাড়ী এলাকার শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়, দোলাইরপাড় প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, এ কেন্দ্রগুলোতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট ছাড়া আর কোন এজেন্ট নেই।
 
‘আমরাই ভোট দিয়ে দিচ্ছি’
 
‘আপনার স্লিপটা আমাদের কাছে দেন। আপনি চলে যান। আমরাই আপনার ভোট দিয়ে দেব।’ এসব কথা বলে মোস্তফা কামালকে পুরানা পল্টন গার্লস কলেজ কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তিনি বলেন ‘আমি তো ৪০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে মানিকনগর থেকে ভোট দিতে এসেছি। আমার ভোট আমি দিতে চাই।’ তখন তাকে বলা হয় ভদ্র ভাবে বলছি চলে যান না হলে মারপিট করা হবে। পাশেই পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকলেও এ বিষয়ে কিছুই বলছেন না দেখে ভয়ে কেন্দ্র ছেড়েছেন তিনি।
 
৩ জনকে সাজা
 

কামরাঙ্গীরচরের বড়গ্রাম মুজিবুর ঘাট থেকে নির্বাচনের আচরণবিধি লংঘনের দায়ে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সেতারা বেগম, শিল্পী বেগম ও হোসনে আরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি শেখ মহসিন আলম জানান, তারা ৫৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র কাউন্সিলর প্রার্থী নাঈমের পক্ষে ভোটারদের কাছে নগদ টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছিলেন। এসময় পুলিশ তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করে।