সাজা ভোগের পরও ভারতের কারাগারে বাংলাদেশের ৫০ শ্রমিক

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৫, ১৩:০১
শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ৫০ জন শ্রমিক ও কৃষক বিভিন্ন প্রলোভনে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করার দায়ে ভারতের বিভিন্ন জেলখানায় সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বন্দী জীবন কাটাচ্ছে। তাদের ছাড়িয়ে আনতে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিজ নিজ ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন পত্রসহ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনের প্রস্তুতি চলছে।
 
দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু আহমেদ নজমুল কবির মুক্তা জানান, আমার ইউনিয়নে প্রায় ৩০ জন ভারতের বিভিন্ন জেলখানায় বন্দী আছে। তাদের প্রায়  ২০ জনের সাজা ভোগের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও উদ্যোগের অভাব এবং উপযুক্ত আইনী সহযোগিতা না পাওয়ায় ছাড়িয়ে আনা সম্ভবা হচ্ছে না। তিনি আরো জানান, আমরা সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে আইনগতভাবে তাদের ছাড়িয়ে আনার জন্য নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সঠিক ঠিকানা ও কারণ উল্লেখ করে প্রত্যয়ন পত্র প্রত্যেক বন্দির অভিভাবককে দিয়েছি। 
 
ভারতের জেলখানায় বন্দী দূর্লভপুর ইউনিয়নের ১৫ রশিয়া গ্রামের রহিমের বাবা সলেমান জানান, ২০১২ সালের আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসের দিকে এলাকার এক গরু ব্যবসায়ী আমার অজান্তে আমার ছেলে রহিমকে ভারতে গরু আনতে পাঠায়। এর কয়েক দিন পর জানতে পারি সে ভারতের ইমফল প্রদেশের মনিপুর জেল খানায় রয়েছে। তিনি আরো বলেন আমার ছেলের সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও  এখনো বাড়ি আসতে পারেনি।
 
যারা ভারতের বিভিন্ন জেলখানায় বন্দী রয়েছে তারা হলো দূর্লভপুর ইউনিয়নের ১৫ রশিয়া গ্রামের সলেমানের ছেলে রহিম, তোজাম্মেলের ছেলে সুজন, মোজাফরের ছেলে কাইউম, পিয়ালীমারী গ্রামের ইউনুসের ছেলে মিজানুর, চল্লিশরশিয়া গ্রামের আসামুদ্দিনের ছেলে আ. খালেক, পিয়ালীমারী গ্রামের উসমানের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন, ৩৩ রশিয়া গ্রামের মোসারফের ছেলে আনারুল, ১২ রশিয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুসের ছেলে মাশিরুল, এস্তাব আলির ছেলে জিয়ারুল,  চাঁপাই সদরের জিয়ানগর গ্রামের নাজিরের ছেলে জাহাঙ্গীর, বিনোদপুুর ইউনিয়নের রসুনচক সাতরশিয়া গ্রামের মোহবুলের ছেলে জোহর, মনাকষা ইউনিয়নের মনাকষা গ্রামের আকালুর ছেলে আনোয়ারুল, সাহাপাড়া গ্রামের মৃত পুটুর ছেলে তোসলিম, পারচৌকা গ্রামের  মৃত মন্টুর ছেলে রিপনসহ প্রায় ৫০ জন ভারতের ইমফল প্রদেশের মনিপুরসহ বিভিন্ন জেলখানায় বন্দী জীবনযাপন করছে।