ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৫, ১৪:২৭
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে বলেছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
 
বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধে পেট্রোল বোমায় নিহতদের স্বজন এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত বাস মালিকদের অর্থ সহায়তা প্রদানকালে শেখ হাসিনা আরো বলেন, দেশবাসী আগামীতেও তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।  
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারচুপির যে অভিযোগ তুলে বিএনপি ভোট বর্জন করেছে তা সত্য হলে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা এতো ভোট পেতেন না। কারচুপি হলে তাদের মেয়র প্রার্থীরা লাখ লাখ ভোট পেলেন কি করে? তিনি বলেন, এবার সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে। মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করেছে।
 
অবরোধ-হরতালে নাশকতার চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এই ধরনের নোংরা রাজনীতি বা এই ধরনের নোংরামি আর যেন বাংলাদেশে না হয়, মানুষের ভাগ্য নিয়ে যেন কেউ আর ছিনিমিনি না খেলে। মানুষের রুজি-রোজগারে যেন আর কেউ আঘাত না হানে।
 
বিএনপিকে একটি ‘কুৎসিত দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, দলটিকে মানুষ এত ভোট দেয় কি করে? এই দলের প্রতি এখন কেবলই ঘৃণা দেখাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা মানুষের পেটে লাথি মারে, পুড়িয়ে মারে তাদের প্রতি কেবল ঘৃণা, ঘৃণা আর ঘৃণা।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারচুপি করে কারও ভোট কেড়ে নেওয়া হয়নি। আমরা জানি না কী কারণে বিএনপি প্রত্যাহার করে নিল। তাদের মেয়র প্রার্থীরা লাখ লাখ ভোট পেয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে কোনো মানুষ ভোট দিতে যেতে পারে নি। এ সময় ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, মিরপুর, মাগুড়ার উপ-নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সেই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে পেরেছি। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং সিস্টেম করতে চেয়েছিলাম, এতে কারচুপি করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু খালেদা জিয়া চাননি।
 
খালেদা জিয়ার জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার কারণে মানুষ কাজ করে খেতে পারেনি। দোকানপাট বাজার বন্ধ ছিলো। খেটে খাওয়া মানুষ কষ্ট পেয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি মানুষ মারে, আর মানুষ তাদের ভোট দেয়। তাদের কি বিবেচনাও নেই? 
শেখ হাসিনা  বলেন, এবার সুস্থ পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল খুন খারাপি করে নির্বাচন বয়কট করা। যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, মানুষের সর্বনাশ করে এদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই থাকতে পারে না।
 
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের দুঃখ আমি বুঝি। কারো বাবা, কারো স্বামী, কারো সন্তান, কারো মা হারিয়ে গেছে। তাদের আর ফিরিয়ে দিতে পারবো না। তিনি বলেন, আমি সাধ্যমত আপনাদের সহযোগিতা করলাম। আমি জানি এটা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। তারপরও আপনারা দোয়া করবেন যেনো এভাবে আপনাদের সহযোগিতা করে যেতে পারি।