‘আগামী অর্থবছরে বাজেট হবে ৩ লাখ কোটি টাকার’

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৫, ২১:০৫
 
 
 
 
‘আগামী অর্থবছরে বাজেটের আকার হবে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা।’ বুধবার সচিবালয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে ইকোনোমিক রিপোর্টার ফোরামের সদস্যদের সঙ্গে বাজেট-পূর্ব আলোচনা অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ সব কথা বলেন। এ সময় তিনি আগামী তিন বছরের মধ্যে বাজেটের আকার বেড়ে দ্বিগুণ হবে বলেও ধারণা করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধরনের মন্দাভাব বিরাজ করছে। কিন্তু আগামী দুই বিশ্ব অর্থনীতি ভালো যাবে বলে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে পূর্বাভাস ব্যক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখেই আগামী দুই বছর বাজেট প্রণয়ন করা হবে। গত পাঁচ বছরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ শতাংশের বেশি। আগের চেয়ে এই প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখ্যযোগ্য। ২০১৮ সালে জাতীয় বাজেটের আকার ৫ লাখ কোটি টাকা করলে এটি হবে আর্থিক দিক থেকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি।’
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘খামাখা অসংখ্য রোড সৃষ্টি করা হয়েছে। এ জন্য সরকারের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, নতুন কোনো রাস্তা আর হবে না। শুধু পুরনো রাস্তা সংস্কার করা হবে, শক্তিশালি করা হবে।’
মুহিত বলেন, ‘গত ছয় বছর ধরে বাজেটে অবকাঠামো ও পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এবারও তা অব্যাহত থাকবে। তবে এর সঙ্গে মানব সম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ইত্যাদি খাতকেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের কাছাকাছি হবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত জানুয়ারি মাস থেকে বিএনপির নেতৃত্বে যে টানা অবরোধ-হরতাল হয়েছে—এ নিয়ে আমি বিভিন্ন সময় নেতিবাচক মন্তব্য করেছি। কিন্তু এ ব্যাপারে আমার মূল্যায়ন হচ্ছে—এক মাসের বেশি ক্ষতি হয়নি এবং অর্থনীতি খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আশা করছি—এটা আমরা উদ্ধার করতে পারব।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘করপোরেট ট্যাক্সের ক্ষেত্রে এবারের বাজেটে বড় একটা সুবিধা দেয়া হয়েছিল। তবে এটা যৌক্তিক বলে আমার কাছে মনে হয় না। আবার পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত হলেই ট্যাক্সের বোঝা কমে যাবে—এটাও তেমন ভালো নয়। করপোরেট ট্যাক্সের বিষয়টি রিভিউ করা হবে।’ এ ছাড়া, সারচার্জের বিষয়টিও রিভিউ করা হবে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সম্পদ ট্যাক্স যেটা আছে, সেটা তেমন কার্যকর হচ্ছে না। এটাকে পরিবর্তন করে এবার বাজেটে প্রপার্টি ট্যাক্স চালু করা হতে পারে।’
প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী ছাড়াও সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।